
শরিয়তপুরের নওপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী (পিওন) নুরজামাল। আওয়ামী লীগ সরকারের একজন চিহ্নিত দোষর হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। সংবিধান অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে কোন নির্বাচনে কোন পক্ষের পক্ষপাতিত্ব সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আ.লীগের ক্ষমতা খাটিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজ্য গড়ে এখন অর্ধশত কোটি টাকার মালিক।
শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরজামাল। সামান্য ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী (পিওন) থেকে দিনে দিনে কিভাবে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক হলেন নুরজামাল? সেই প্রশ্নেই তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস পাড়ায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না নুরজামাল। ঘুষ বাণিজ্য করে তিনি হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। তার রয়েছে লাখ লাখ টাকার মূল্যের বাড়ি, জমি।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চাকুরি হওয়ার আগে মামার দোকানে চা বিক্রি করতেন এই নুরজামাল। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্বে ও তিনি হয়েছেন অর্ধশত কোটি টাকার মালিক। বানিয়েছেন কয়েক লাখ টাকার বাড়ি। তিনি নিজ এলাকার বিভিন্ন স্থানে নিজের নামে জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন কৃষকের নানা অভিযোগ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে নওপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী (পিওন) নুরজামাল-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
এদিকে তার গ্রামের অনেকেই নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, নুরজামালের বাবা ছিলেন একজন গরীব দিনমজুর। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো তাদের।নুরুজামাল ও তার পিতা তার মামার দোকানে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন । ভূমি অফিসে চাকরি করার সুবাদে বর্তমানে তিনি অর্ধশত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। চতুর্থ শ্রেণীর একজন কর্মচারী থাকা অবস্থায় অঢেল টাকা পয়সা ও সম্পত্তির মালিক হওয়ায় বিস্মিত এলাকাবাসী। তারা আরও জানান নওপাড়া ইউনিয়নের এক জনের জমিন আরেক নামে বন্দোবস্ত করে দিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন নুরজামাল ।অনেক অসহায় কৃষককে পথের ফকির বানিয়েছেন এই নুরজামাল। এলাকাবাসি তার সরকারি চাকুরি বাতিল চান।
প্রসঙ্গত, যোগদানের পর থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন নুরুজ্জামান। নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত কোনো কাজ করতে গেলে ঘুষ নিচ্ছেন তিনি। দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্য করে বারবার রেহাই পাওয়ায় তিনি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।আওয়ামীলীগের সময় এনামুল হক শামীমের পক্ষ হয়ে সরাসরি নির্বাচনের প্রচার করেছেন।এলাকার লোকজন ভূমি সংক্রান্ত কোন বিষয় তার কাছে জানতে চাইলে লোকজনকে সব সময় বলতেন সব জানে বড় স্যার আনোয়ার সাহেব।