
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আগুন পুড়িয়ে হত্যা করার নারীর খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ওই নারীর পরিচয় জানা গেছে। নিহত নারীর নাম মোসাম্মৎ শারমিন বেগম (হরমুজা)(৫০)। তিনি স্থানীয় নুরুল ইসলাম ব্যাপারীর স্ত্রী।
তিনি ওই এলাকায় ফরহাদ রনিদের আশ্র দেওয়া বাড়িতে বহু বছর যাবত বসবাস করছেন। আশ্রয়দাতা জায়গার মালিকের অনেক সময় অনেক কাজে তাদের সহযোগিতা করে আসতেন হরমুজা বেগম ও তার স্বামী নুরুল ইসলাম হত্যার দিন ভোরবেলা ফেরি করে কুলা বিক্রির জন্য চলে যান তার কিছুক্ষণ পরে ঘাতক রনি হরমোন যাকে নিজে ঘর থেকে ডেকে আনেন যে বলে আম্মার শরীর খুব অসুস্থ আপনাকে ডাকছে এখন যাওয়ার জন্য বলে সাথে করে নিয়ে আসেন কিছুক্ষণ পরে এই হত্যাকাণ্ড আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা জানা যায় উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ ভূইয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গাজীর বাজার এলাকার এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে রাজহাঁস চুরি হয়। সকাল ৭টার দিকে হাঁস খুঁজতে এসে শাহনেওয়াজ ভুইয়ার জায়গায় পরিত্যক্ত টিনের ভাঙা ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন সেখানে থাকা ফারহান রনি জানান, তিনি পাতা পোড়াচ্ছেন। সন্দেহ হলো কিছু একটা মাংস জাতীয় পোড়াচ্ছে মনে হয়েছে প্রাথমিকভাবে তার রাজা হাঁস গুলো পুরে গ্রিল কিংবা কাবাব বানিয়ে খাচ্ছে কারণ ধোয়ার সাথে মাংস পুরা গন্ধ বের হচ্ছিল কথায় বিশ্বাস না হলে খুঁজতে আসা হাঁসের মালিক পরে তার নিজের বাড়িতে গিয়ে ডেকে নিয়ে আসেন দুই ভাই এনামুল ও রোমান এবং তাদের চাচাতো ভাই উবায়দুলকে ঘরের ভেতরে কী আছে দেখতে চান। এতে ফারহান রনি ক্ষুব্দ হয়ে তাদের মারার হুমকি দেন। এতে আরও সন্দেহ তৈরি হয়। পরে গ্রামের লোকজনকে জড়ো করে ওই ঘরে ঢুকে গর্তে মরদেহ পুড়তে দেখা যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে ধরে হাত পা বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেয় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তাকে পুলিশের হাতে সুপর্দ করেন ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের অংশে বিশেষ উদ্ধার করে পুলিশ।
এলাকাবাসীর থেকে আরো জানা যায় সেএকজন চিহ্নিত মাদক সেবী মাদক ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজির বাজার এলাকার একটি পুকুরে পাশে থেকে মরদেহের মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে মায়ের লাশ সনাক্ত করেন জিমা বেগম, বড় মেয়ে রিমা আক্তার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতের তিন মেয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে মা হত্যার বিচার চেয়ে সরকারের কাছে আদালতের মাধ্যমে তার ফাঁসি নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আখাউড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন, সকালের খবর২৪.কে জানান বাদির কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এ ঘটনায় ফারহান রনি নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তিতে মরদেহের খণ্ডিত মাথা একটি পুকুরে পাশে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। খন্ডিত আগুনে পুড়ে যাওয়া মরদের দেহের অংশবিশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ আদালতে পাঠানো হবে।