
পোনে এক কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ মামলায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পিপি এড.কে এম ইকবাল হোসেনকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ২৪ ডিসেম্বর খুলনা মহানগর দায়রাজজ আদালতে আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে বিচারক শরীফ হোসেন হায়দার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, এ মামলার জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ছয় সপ্তাহের আদেশ জারি করে নিম্ন আদালত থেকে জামিন নেওয়ার কথা জানানো হয়। সে আদেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার তিনি খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের জন্য এসেছিলেন। কিন্তু আইনজীবীদের বিরোধীতার কারণে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্রে আরো জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ই জানুয়ারি সাধারণ সভার মাধ্যমে একজন চেয়ারম্যান এবং খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে সদস্য করে একটি বিশেষ কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়। কল্যাণ তহবিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এড. কাজী বাদশা। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এড.মো.সাইফুল ইসলাম ও এড.কে এম ইকবাল হোসেন।
পাঁচ বছর মেয়াদী একটি তহবিল গঠন করে প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ৩০০ টাকা এবং বার ৭০০ টাকা ধার্য করা হয়। এর উদ্দেশ্য নিয়ে ২০২০ সালের ১২ ই অক্টোবর চেয়ারম্যান ও দুই সদস্যের স্বাক্ষরে সমিতির রেজুলেশন সহ এস আই বি এল ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও অন্য একজন সদস্যের স্বাক্ষরে লেনদেন পরিচালিত হবে। ওই একাউন্টে প্রাথমিকভাবে টাকা জমা হওয়ার পর পৃথক পৃথকভাবে পাঁচটি পাঁচ বছর মেয়াদী সঞ্চয় স্কিম খুলে প্রতি মাসে সেখান থেকে নিয়মিত টাকা জমা করা হয়। কিন্তু পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার এক বছর ছয় মাস পূর্বে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক পরস্পর যোগসাজশে নির্বাহী কমিটির কোন সভা ছাড়াই তাদের স্বাক্ষরে এসআই বি এল ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে ৭৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা আত্মসাৎ করে। এ ঘটনায় এবছরের ২৮ শে আগস্ট জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সদস্য সচিব এড.নুরুল হাসান রুবা বাদী হয়ে দন্ডবিধির-১৮৬০/এর৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় খুলনা থানায় একটি মামলা দায় করেন, মামলা নং১৬।
মামলায় আসামিরা হলেন, এড.মো.সাইফুল ইসলাম,এড.তারিক মাহমুদ তারা,এড.কেএম ইকবাল হোসেন, এড.কাজী বাদশা মিয়া ও এড.মো.সাইফুল ইসলামের ক্যাশিয়ার (ইশতিয়াক)।
জেলা পিপি এড.তৌহিদুর রহমান তুষার বলেন, উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকে তাকে 6 সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার তার শেষ দিন ছিল। আজ তিনি আদালতে আবেদন করলে তার জামিন নামজুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।