
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিড়ি দিয়ে নামাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (২৪ ডিসেম্বর ) বেলা ১১ টায় একদল ৬ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী হেলমেট মুখোশ পড়ে হকিস্টিক, রামদা এবং এস এস পাইপ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের প্রখ্যাত অর্থোপেডিক্স সার্জন ডা মো: শাহীন জোদ্দারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে।
আহত চিকিৎসক মুমূর্ষু অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমন্বিত চিকিৎসকদের জরুরী অস্ত্রোপাচার শেষে চিকিৎসাধীন,সিটিস্ক্যান সম্পন্ন করা হয়েছে তবে এখনো আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তিরত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে
হাসপাতলে কর্মরত একাধিক চিগিৎসকের জানায়, রবিবার বেলা ১১:৩০ টার দিকে ওয়ার্ড রাউন্ড শেষে করে ডাক্তার শাহীন জোদ্দার সিড়ি দিয়ে নামার পথে
দুষ্কৃতিকারী জেড এম নার্সিং কলেজের ছাত্র ও মেডিকেল হাসপাতালে ইন্টার্নি করা মুত্তাকীন ডাক্তারকে ধাক্কা দেয় এবং তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে।পরবর্তীতে ডা শাহীন জোদ্দার মুক্তাকীনকে শাসন সহ বুঝিয়ে বললে মুক্তকীন চলে যায়।
পরে মুক্তাকীন লোকজন নিয়ে এসে ডাক্তারের উপর হামলা চালায়।এ সময় ডাক্তার শাহীন জোদ্দারকে এস এস পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে চিকিৎসক হাত দিয়ে ফেরালে মুখে মারাত্মকভাবে আঘাত মুখে, দাত ভেঙ্গে যায়, পরে মাথায় আঘাত করে।
পরবর্তীতর ছাত্র, ইন্টার্ন ও চিকিৎসকদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে একজন সন্ত্রাসী আটক করা হয়েছে।এই ঘটনায় হাসপাতাল জুড়ে বিব্রতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত,এই ঘটনা কেন্দ্র করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন চলছে।
জানাযায়, মুক্তাকীন মেডিকেল হাসপাতালে পাশে পশ্চিম খাবাসপুর বড়বাড়ির মোঃ আলগীরের পুত্র, ওর মা মেডিকেল হাসপাতালের নার্স জোবাইদা শুলসান।দুষ্কৃতিকারী মুত্তাকীনকে প্ররোচনাসানকারী তার মা সিনিয়র স্টাফ নার্স জোবাইদা গুলশানাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে,ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কর্মরত ডাক্তার সহ পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সেবা সংস্কার পরিষদ। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করা না হলে ইমার্জেন্সি অপারেশন/চিকিৎসা ছাড়া সকল প্রকার অপারেশন এবং সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে।