
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসছে মাদকদ্রব্য,গবাদিপশু, সুপারি। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রতি রাত ও দিনে যাচ্ছে সার,অকটেন,পেট্রোল, ডিজেল,চাউল,মাছ,তরী তরকারি থেকে শুরু করে এমন কোন পণ্য নেই যে নিয়মিত পাচার হচ্ছে না।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানান নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামুর কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়ার প্রভাবশালী নেতা,ও জনপ্রতিনিধি ছোট, বড় নেতাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সিংহ ভাগ মানুষ। তারা প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ ভাবে সীমান্ত চোরাচালান ব্যবসা চলমান।
এসব ব্যবসা উপজেলা সদর ও দোছড়ি,ঘুমধুম ইউনিয়নের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত মরন নেশা ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য,শত, শত গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
এসব গবাদিপশু মাদকদ্রব্য রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামুর বিভিন্ন চোরাই পথ দিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। এছাড়াও চাকঢাল বাজার এবং রামু উপজেলার গর্জনিয়া বাজারে এনে গরু,মহিষ,ছাগল বিক্রি করেন চোরাকারবারিরা।
নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা ও রামুর গর্জনিয়া বাজার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৩ থেকে ৫০ নম্বর পিলার পর্যন্ত দীর্ঘ এই সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। এ কারণে চোরাকারবারিরা নিরাপদ ও অধিক সুবিধায় বাজার কেন্দ্রিক হওয়ায় চোরাকারবারীরা বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে এসব ব্যবসা।
অপর দিকে এদের পাশাপাশি ঘুমধুম ইউনিয়ন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং স্বর্ণ।
সরজমিন দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে আসা গরু-মহিষ বৈধতা দিচ্ছে বাজার ইজারাদাররা। প্রতিটি গরুর জন্য দেয়া হচ্ছে একটি করে রসিদ। সেই রসিদ মেনে নিচ্ছে প্রশাসন। এ রসিদ নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি-১১ বিজিবি জোন (ব্যাটালিয়ন), থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়ে ট্রাকে ট্রাকে করে গরু-মহিষ নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থান থাকলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় চোরাকারবারিরা বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দিনরাত।
জানা যায়, বিজিবি’র টহলদল এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে কঠোর পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে যেসব গরু মহিষ এবং মাদক আটক করছে তা চোরাকারবারিদের আনা গরু-মহিষ এবং মাদকের চালান মাত্র ১০% আটক হয়।
ঘুমধুম ও সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন মিয়ানমার পাচার হচ্ছে সার, কীটনাশক, ওষুধ, চাল, অকটেন, সয়াবিন তেল, মুরগি, ডিম, মাছ, বিস্কুটসহ ৩০-৪০ প্রকারের বাংলাদেশি পণ্য। এসব চোরাচালানে জড়িত রয়েছে চিহ্নিত ও আলোচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এ যাবতীয় মালামাল আনা-নেয়ার জন্য চোরাকারবারিরা সড়ক ব্যবহার করে আসছে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর,দোছড়ি,ঘুমধুম ইউনিয়নের ভাল্লুক খাইয়া সড়ক,ফুলতলী রোহিঙ্গা টেইলা,রেইকার শিয়া,আশাসতলী,জারুলিয়া ছড়ি,জামছড়ি, মেহেরপুর সড়ক, হামিদিয়া পাড়া সড়ক, দক্ষিণ মৌলভীরকাটা সড়ক, নিকুছড়ি টু সোনাইছড়ি সড়ক, ছালামীপাড়া শাহ আলমের দোকানের পাশ হয়ে লাইটে গোড়া সড়ক, আলী মেম্বার-অইক্যের ঘোনা সড়ক হয়ে লাইটে গোড়া সড়ক, মৌলভীকাটা রাবার ড্যাম-ভামো ও শামশুর ঘোনা হয়ে ছালামীপাড়া খামারপাড়া অংকপাড়া হয়ে লাইটের গোড়া সড়ক, বাইশপাড়ি, তুমব্রু লামার পাড়া জলপাই তলি। চাকঢালা ও গর্জনিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী সচেতন মহলের মতে, সীমান্তে বিজিবি’র অস্থায়ী তল্লাশি ক্যাম্প বসিয়ে নজরদারি বাড়ালে চোরাকারবারি কিছুটা বন্ধ হবে। তাতেও যদি না হয় বিজিবি, পুলিশ, গোয়েন্দা, আনসার, স্থানীয়দের সমন্বয়ে তদারকিসহ পাহারা বসালে এ চোরাকারবারি বন্ধ করা সম্ভব।