
পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে নিয়ম মেনে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ছিল। কোন প্রকার স্বজনপ্রীতি বা কারো সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি জানিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছে নিয়োগ কমিটি। সোমবার (২৩-ডিসেম্বর) এই প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করে আদালত কতৃপক্ষ ।
সকাল ১১ টায় পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের হলরুমে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিং এ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারি জজ) ও সদস্য, নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটি, পঞ্চগড় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পঞ্চগড়, লিমেন্ট রায় স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজ পাঠ করেন নাজির মো. সাইফুল ইসলাম।
উল্লেখ্য গত (২০-ডিসেম্বর) ২০২৪ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার মকবুলার রহমান সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পঞ্চগড় এর ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী নিয়োগ পরীক্ষার ১ম দিনের সকাল ১০ ঘটিকার পরীক্ষা চলাকালীন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। কিন্তু উক্ত ঘটনাটি একতরফাভাবে একাধিক মিডিয়ায় যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা বাস্তব ঘটনার সংঙ্গে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। উক্ত পরীক্ষা গ্রহণের জন্য জেলা জজ আদালতের পক্ষ থেকে গত ১৫—১২—২০২৪ ইং তারিখে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব, মো. আশরাফুজ্জামান সরেজমিনে কলেজে উপস্থিত হয়ে অধ্যক্ষের সংঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে। কলেজের একাডেমিক কাম এক্সামিনেশন ভবন ও একাডেমিক পুরাতন ভবন (কলা) এই দুটি বিল্ডিং—এ পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক নিধারিত দুইজন শিক্ষক ও কর্মচারী এর দেয়া তথ্য মোতাবেক পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে বেঞ্চ পুনঃর্বিন্যাস করা হয়। সেই মোতাবেক উক্ত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ৫ম তলা বিল্ডিং এর ৫০৪ ও ৫০৫ কক্ষ দু’টি তালা—বদ্ধ থাকায় চাকুরী প্রত্যাশী পরীক্ষার্থীরা বাহিরে অপেক্ষামান থাকে। বিষয়টি জেলা জজ আদালতের নিয়োগ কমিটি জানার পর তাৎক্ষনিক উক্ত কলেজের অধ্যক্ষকে জানালে, তিনি বলেন উক্ত কক্ষদুটির চাবি যার কাছে আছে সে ছুটিতে আছে। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ উক্ত কক্ষ দুটির তালা হাতুরি দিযে ভেঙ্গে ফেলার কথা বললেও কলেজের কোনো স্টাফ তাতে সহযোগিতা করেনি। ইতোমধ্যে অন্যান্য কক্ষে পরীক্ষা শুরু হলে তা দেখে তালা—বদ্ধ ২টি কক্ষের চাকুরি প্রত্যাশী পরীক্ষার্থীরা হট্রগোল শুরু করে এবং কলেজের মাঠে নেমে আসে। পরবর্তীতে আমরা সেই দুটি কক্ষের চাকুরি প্রত্যাশী প্রার্থীদের অন্য কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করলেও পরীক্ষার্থী নয় এমন কিছু ছেলে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বিশৃঙ্খলা করতে থাকে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে না থাকায় আমাদের সিজেএম স্যার নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে পরীক্ষার সকল কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে সেই বিজ্ঞপ্তি অফিসের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া কেন সেদিন উক্ত কক্ষ দুটি তালাবদ্ধ ছিল; সেই বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয় এবং উক্ত দিনের পরীক্ষা বাতিল করা হয়। মূলত: নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাবতীয় নিয়ম মেনেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে এ সময় জানানো হয়।