
নিজস্ব প্রতিবেদক:: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্তৃক গত ২৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুমোদন করা জাতীয় নাগরিক কমিটির ১৫ সদস্যের কমিটি। এরই মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলা থেকে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি থেকে অংশগ্রহণকারী উশ্যেপ্রু মারমাকেও ৮নং সদস্য হিসেবে দেখা যায়। তখন থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়ার উশ্যেপ্রু মারমার কার্যকলাপ ও আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে গতকাল শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৪) উশ্যেপ্রু মারমাকে জাতীয় নাগরিক কমিটির থেকে বহিস্কার করা হয়।
জানা যায়, উশ্যেপ্রু মারমা খাগড়াছড়ির চিহ্নিত বর্ণচোরা, দুর্নীতিবাজ-ভূমি দখলকারী, প্রতারক ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর ছিলেন। সর্বশেষ শেখ হাসিনার পাতানো নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থীও ছিলেন তিনি। যার বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, চাকুরি প্রলোভন দেখিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উশ্যেপ্রু মারমার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তৎকালীন দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আওয়ালের পাঠানো আদেশে দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করেন তৎকালীন অতিরিক্ত খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবুল হাশেম। তিনি তদন্ত করে দুদকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছিলেন কমিশন। কিন্তু মাঝপথে তদন্ত থেমে যায় সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা হস্তক্ষেপে। অত্যান্ত চতুর ও সুযোগ সন্ধানী উশ্যেপ্রু মারমা ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপির খাগড়াছড়ি আসনে নির্বাচনে অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার কাছ থেকে দুই কোটি হাতিয়ে নিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে। এতেও দমে যাননি উশ্যেপ্রু; ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ নিজের রূপ পাল্টে ফেলেন এই দুর্নীতিবাজ। এবার নতুন ফন্দী করতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দেন-দরবার শুরু করেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন হলেও তার মনোবাসনা পূর্ণ না হওয়া খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে চলতি বছরের ১২ নভেম্বর সাংবাদিক সম্মেলন করেন উশ্যেপ্রু মারমা। তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা ও পরিষদের সদস্যদের নিয়োগ বাতিল করতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটান দেন। অন্যথায় জেলা পরিষদ ঘেরাও, হরতাল ও অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দেন।
তার এতএত সব কু-কীর্তি জনসম্মুখে একে একে প্রকাশিত হলে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাতীয় নাগরিক কমিটির বর্ধিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উশ্যেপ্রু মারমা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির ‘ডামি নির্বাচন’- এ তৃণমূল বিএনপি’র হয়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের অবৈধ জাতীয় নির্বাচন জাতির সাথে প্রহসনের এক নির্মম চিত্র। এমন নির্বাচনে প্রার্থিতা করা কেউ জাতীয় নাগরিক কমিটির কোনো পর্যায়েই সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন না ।