ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে কৃষকদলের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলন ও সাংস্কৃতি সন্ধ্যা 
নওগাঁয় মাটিবাহি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু
ভূরুঙ্গামারী ফাযিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রদের ঈদ পূর্ণমিলনী
কুয়াকাটা সৈকত দখল করে ঝুকিপূর্ণ মার্কেট নির্মানের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কেমন কুড়িগ্রাম দেখতে চাই শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বোদায় ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
সরাইলে অভিযানে ৩ হত্যা মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ৯
বাগমারায় চুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু:ঘাতকে পিটিয়ে হত্যা করলো উত্তেজিত জনতা
নড়াইলে বিএনপি নেতা সান্টুর উপর ককটেল হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ
লাখো পর্যটকের সমাগম কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। শতভাগ হোটেল মোটেল বুকিং
আমতলীতে কুপিয়ে স্ত্রীর হাত কর্তন করলেন নেশাগ্রস্থ স্বামী
হোমনায় যুবকের ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে মোদির সঙ্গে কথা বললেন ড. ইউনূস
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

পঞ্চগড় আদালতের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম-সংশ্লিষ্টরা অবরুদ্ধ

পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম-দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে লিখিত পরীক্ষা বর্জন করেছেন চাকুরি প্রত্যাশী পরীক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে বিক্ষোভ করে স্বচ্ছ পরীক্ষার দাবিতে বিচারকসহ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। এমতাবস্থায় এই নিয়োগের সব পরীক্ষা অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত ঘোষণা করেছে নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটি। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
সকাল সোয়া ১০টার পর থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলমান ছিল। নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান ও পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডলসহ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন পরীক্ষার্থীরা। দুপুর দেড়টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডল পরীক্ষা সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনার দায় স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সেইসঙ্গে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হন তারা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনও কোনও পরীক্ষার কক্ষ সময়মতো খুলে দেওয়া হলেও বেশিরভাগ কক্ষ খোলা হয়েছে ১০-১৫ মিনিট দেরিতে। এমনকি পরীক্ষার কক্ষে কোনও আসন বিন্যাস না থাকায় যে যার মতো করে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। প্রশ্নপত্র খোলাভাবে পরীক্ষার কক্ষে এনে দেওয়া হচ্ছিল। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সন্দেহ তৈরি হয়। কোনও কোনও পরীক্ষার্থী মোবাইলে সার্চ দিয়ে উত্তর খুঁজে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। অনেকের প্রায় ১৫ মিনিট পরীক্ষা দেওয়া হয়ে গেলেও কেউ কেউ বসার জায়গা পাচ্ছিলেন না। পরীক্ষার কক্ষে আদালতের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসব অব্যবস্থাপনা দেখে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরীক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। পরে তারা পরীক্ষা বর্জন করে সবাই একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় কলেজের শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ও বসার বেঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেন। পরে পরীক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান ও পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডল, মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম, অন্যান্য বিচারক ও কর্মকর্তা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সেনাবাহিনী ও পুলিশ আলোচনায় বসে। এ সময় পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগ কমিটি বাতিল ও অব্যবস্থাপনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়। এ অবস্থায় পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের শুক্রবার ও শনিবারের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির সদস্যসচিব ও পঞ্চগড়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি ‘জুডিশিয়ারি পঞ্চগড়’ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এতে এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি জানানো হবে মর্মে বলা হয়। তারপরও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে বাইরে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলতে থাকে। দুপুর সোয়া ১টার দিকে আলোচনা শেষে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বেরিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান ও পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে আবারও প্রবেশপত্র দেওয়া হবে বলে জানান। তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনার দায় স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দুপুর দেড়টার দিকে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে গেলে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হন কর্মকর্তারা। বেঞ্চ সহকারী পদে পরীক্ষার্থী মোঃ শাহজাদ বলেন, আমার কক্ষে পরীক্ষার্থী ছিল ৭০ জন। প্রশ্নপত্র এসেছে ৫০টি। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে কিন্তু আমরা অনেকে বসার জায়গা পাইনি। এর মধ্যে নিয়োগ কমিটির বাছাইকৃতদের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। তারা লিখতেছিল। তখনও আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। সিফাত হাসান নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, নতুন স্বাধীন দেশে অনিয়ম-দুর্নীতি হবে, এজন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়নি। প্রশ্নফাঁসে জড়িত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের শাস্তিসহ বদলির দাবি জানাই। পরীক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, পরীক্ষার কক্ষে গিয়ে দেখি আমাদের সিট প্ল্যান নেই। যে যার মতো করে বসেছে। আবার কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। এরই মধ্যে ১০টা বেজে ১০ মিনিট হলেও আমাদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়নি। অথচ অন্য কক্ষগুলোতে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। এমনটা অনেকের সঙ্গে হয়েছে। পরে সবাই বাইরে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করি। আব্দুল্লাহ আরিফ বলেন, অনেকে মোবাইল থেকে উত্তর সংগ্রহ করে খাতায় লিখছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা বাধা দেননি। পরে শুনি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর সঙ্গে কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়িত আছেন। মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালত কর্তৃপক্ষ এই পরীক্ষার বিষয়ে আমাদের কাছে ভেন্যু চাওয়া ছাড়া আর কোনও যোগাযোগ করেননি। এমনকি কোন কোন কক্ষে পরীক্ষা নেবেন, তার কোনও তালিকাও দেননি। বৃহস্পতিবার আমি নিজে ফোন করেছি, কিন্তু তারা রিসিভ করেননি। তাদের সিট প্ল্যান ছিল না। এতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ছিল। পরে বিক্ষোভকারীরা আমাদের শ্রেণিকক্ষের জানালাসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেছেন। আমরা এসব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালত কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাবো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সবাই মিলে ১০ দফা দাবি পেশ করেছি। এর মধ্যে পরীক্ষা বাতিল, বর্তমান নিয়োগ কমিটি বাতিল করে নতুন নিয়োগ কমিটি গঠন, নিয়োগ কমিটিতে ডিসি, এসপি, সেনা কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি, জজ কোর্টের প্রতিনিধি রাখতে হবে, শুধুমাত্র পঞ্চগড়ের বাসিন্দাদের নিয়োগ দিতে হবে, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, সব পরীক্ষার্থীকে নতুন করে প্রবেশপত্র দিতে হবে উল্লেখযোগ্য। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু দাবি মেনে নিয়েছে নিয়োগ কমিটি। পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. ইমাম রাজী টুলু বলেন, পরীক্ষার্থী, সমন্বয়ক, পুলিশ, বিচারক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি ও অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডল বলেন, পরীক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবির কয়েকটি মেনে নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসসহ বাকি অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পরে প্রবেশপত্র সরবরাহ করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুনঃ