
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত পেঁচারকান্দা সেতুর সংস্কার কাজের মেয়াদ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। আড়াই কোটি টাকার নির্মিত সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ কাজের কিছু অংশ বাকী থাকায় ও সংযোগ সড়ক না থাকায় যান চলাচলে কোনো কাজে আসছে না। ফলে বাঁশ-কাঠের মাই দিয়ে সেতুটি পারাপার হচ্ছে পথচারীরা।
পেঁচারকান্দা নির্মিত সেতুটি উপজেলা সদরের সঙ্গে তিনটি ইউনিয়ন ও জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।এই বিবেচনায় সেতুটি নির্মাণ করে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)
এদিকে সংযোগ সড়কের অভাবে সেতু দিয়ে যান চলাচল সম্ভব হয় না। তবে এক প্রকার বাধ্য হয়েই পাশে বাঁশ-কাঠের মই দিয়ে হেঁটে চলাচল করেন পথচারীরা। এতে প্রায় ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।সেতুটি সম্পূর্ন না হওয়ার কারনে উপকারভোগীদের যানবাহন নিয়ে জেলা সদরে যেতে হচ্ছে কমপক্ষে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে।
ঘিওর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানিয়েছে, ২০০৮ সালে এলজিইডির অধীনে পেঁচারকান্দা বাজারসংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর ওপর ১০০ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বন্যার ভাঙনে উত্তর পাশে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নদীতে বিলীন হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫ দশমিক ৮ মিটার সেতুর বৃদ্ধি ও সম্পূর্ণ সেতুর সংস্কারকাজ হাতে নেয় এলজিইডি। এ কাজের দায়িত্বে রয়েছে জামালপুর জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিতু ট্রেডার্স।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে অবহেলা করছে। প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প শ্রমিক এবং মাঝেমধ্যেই সাইটে কাজ বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে হরহামেশাই। কাজের মান নিয়েও রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে সংশয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পিন্টু সাহা বলেন, জাতীয় নির্বাচন এবং বর্ষার কারণে কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হয়েছে। ২য় ধাপে কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবে।
এ ব্যাপারে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, বর্তমানে সেতুর কাজ চলমান। শিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এ কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।সেতুটি চালু হলে দ্রুত ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে।