
ডেস্ক রিপোর্ট : নিজেদের প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে না পারলেও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের নতুন করে চেনালো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ৭ ও ২৭ রানে জয়ের পর এবার শেষ ম্যাচে ৮০ রানের ব্যবধানে উইন্ডিজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা।
আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সেন্ট ভিনসেন্টে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে ৪১ বলে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭২ রান করেন জাকের আলি। জবাবে খেলতে নেমে ১৬ ওভার ৪ বলে ১০৯ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর বাংলাদেশ তুলে নেয় ৮০ রানের জয়।
সিরিজের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন ব্রান্ডন কিং ও জনসন চার্লস। তবে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই এই জুটিকে থামান তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে শূন্য রানেই সাজঘরে ফিরে যান ব্রান্ডন কিং।
ব্রান্ডন কিংয়ের বিদায়ের পরের ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান জাস্টিন গ্রিভস। তাকে ফেরান মেক মেহেদেী হাসান। মেহেদেী হাসানের শিকার হয়ে ৫ বলে ৬ রান করেই তিনি পথ ধরেন প্যাভিলিয়নের। তার বিদায়ে মাত্র ৭ রানেই ২ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন জনসন চার্লস ও নিকোলাস পুরান। এই জুটিতে ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বেশিদূর এগোনোর আগেই এই জুটিকে থামিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন মেখ মেহেদী হাসান। মেহেদী হাসানের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান ১০ বলে ১৫ রান করা নিকোলাস পুরান। তার বিদায়ে ভাঙে ৩৮ রানের জুটি।
নিকোলাস পুরানের বিদায়ের পরের ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান রোস্টন চেজ ও জনসন চার্লস। রোস্টন চেজ ৪ বলে শূন্য রান করে ও জনসন চার্লস ১৮ বলে ২৩ রান করে রান আউটের শিকার হয়ে পথ ধরেন প্যাভিলিয়নের। এই দুই ব্যাটারের দ্রুত বিদায়ে ৪৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
৪৬ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন রোমারিও শেফার্ড ও রোভম্যান পাওয়েল। তবে তারাও ব্যর্থ হন বেশিদূর যেতে। দলীয় ৬০ রানে রোভম্যান পাওয়েলকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন।
রোভম্যান পাওয়েলের বিদায়ের পর গুড়াকেশ মোতিকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন রোমারিও শেফার্ড। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই এই জুটিকে থামিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন রিশাদ হোসেন। রিশাদের বলে লং অফে তানজিম হাসান সাকিবের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান ১২ বলে ১২ রান করা গুড়াকেশ মোতি। তার বিদায়ে ভাঙে ৩৫ রানের জুটি।
গুড়াকেশ মোতির বিদায়ের পর একই ওভারে সাজঘরে ফিরে যান আলজারি জোসেফও। তার বিদায়ে ৯৭ রানে ৮ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
৯৭ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর আর বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি রোমারিও শেফার্ড। ২৭ বলে ৩৩ রান করে তানজিম হাসান তামিমের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিরি। তার বিদায়ে ১০১ রানেই ৯ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যার ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশর দরকার হয় মাত্র ১ উইকেট।
বাংলাদেশকে সেই কাঙ্খিত উইকেটটি এনে দেন তাসকিন আহমদে। ইনিংসের প্রথম উইকেটটিও তিনিই নেন, আর তার হাত ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেস উইকেটটি ফেলে দিয়েন জয়ের আনন্দে ভাসে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে ২১ রানে ৩ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার রিশাদ হোসেন। তাছাড়া তাসকিন ও মেহেদি দুটি করে উইকেট পেয়েছেন। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন তানজিম সাকিব ও হাসান মাহমুদ। এর আগে আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভেল গ্রাউন্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে আজ শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে তুলে নেয় ৪৪ রান। তবে এরপরেই খেই হারাতে থাকেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। একের পর এক টাইগার ব্যাটার ফিরে যেতে থাকেন সাজঘরে। তাদের দ্রুত বিদায়ে ১১৪ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এরপরেই দলের হাল ধরেন জাকের আলী অনিক। তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। তার অর্ধশতকে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৯/৭ (জাকের ৭২*, পারভেজ ৩৯, মিরাজ ২৯, তানজিম ১৭, লিটন ১৪; শেফার্ড ২/৩০, চেজ ১/১৫, মোতি ১/৩০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৬.৪ ওভারে ১০৯ (শেফার্ড ৩৩, চার্লস ২৩, পুরান ১৫, মোতি ১২; রিশাদ ৩/২১, মেহেদী ২/১৩, তাসকিন ২/৩০, তানজিম ১/৩১, হাসান ১/৯)
ফল: বাংলাদেশ ৮০ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।
ম্যাচসেরা: জাকের আলী (বাংলাদেশ)