ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পঞ্চগড়ের বোদায় গুম, খুন, ছিনতাই, ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
ফুলবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের নিয়ে ঈদ পূর্ণমিলনী
চাঁদাবাজির অভিযোগে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে শোকজ
রাজধানীর’ খেতাপুড়ি ‘দখল করেছে পটুয়াখালীর ঝাউবন
ঝিকরগাছায় কিশোরকে বস্তা কিনতে পাঠিয়ে ভ্যান নিয়ে চম্পট
১৭ বৎসর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি ,দরকার হলে আবারো নামা হবে: আজিজুল বারী হেলাল
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ

মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ:অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণ মামলা

মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবীশের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন তারই প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক নারী সহকর্মী। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সম্প্রতি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক একজন আয়া। তবে এ অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ।

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার ধলাইচর গ্রামের মধ্যবয়সি এই নারী আদালতে অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ তাকে একাধিকবার জোর করে ধর্ষণ করেছেন এবং ধর্ষণের গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ের সুযোগ নিয়ে গত ১৭ জুলাই কলেজের এই আয়াকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভিকটিম।

এর আগে,২০১২ সালে মাস্টার রোলে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়া হিসেবে যোগদান করেন ভুক্তভোগী এই নারী। ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তার চাকরি স্থায়ীকরণ হয়। ২০২১ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পরেই মোস্তফা কামাল খোশনবীশ এই আয়াকে কারণে অকারণে তার অফিসে ডেকে বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুযোগ পেলেই কলেজের কাজের ফাঁকে তার স্ত্রী অসুস্থ থাকার অজুহাতে আয়াকে দিয়ে মোস্তফা কামাল খোশনবীশ তার ঘরের কাজ করাতেন। আয়াকে ১০ হাজার টাকা দামের শাড়ি কিনে দেয়ার লোভও দেখানো হয়। ওই সময়ে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আয়া ধর্ষণের কথা সবাইকে বলে দিতে চাইলে মোস্তফা কামাল খোশনবীশ আয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তার কথা না শুনলে পরিণতি ভয়াবহ হবে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুই যদি বলা মাত্রই না আসোস, তাহলে আমার মোবাইলে ধারণ করা তোর খারাপ ভিডিও সবাইকে দেখাই

দিব।’

মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের লিটন নামে এক পিওন আয়াকে ‘ধর্ষণের’ বিষয়টি জেনে ফেলায় মোস্তফা কামাল খোশনবীশের নির্মম অত্যাচারে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। এই ঘটনায় মিরপুরে তোলপাড় শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই আয়াকেই উল্টো ডেকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করেন তিনি। অধ্যক্ষের হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও তার চাকরি রক্ষা হয়নি।

অভিযোগে আরো বলা হয়,আয়ার বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। অধ্যক্ষ আয়াকে আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হলে কিছুদিন পর তাকে আবার চাকরি দেয়ার মিথ্যা আশ্বাসও দেন। মিথ্যা কথা বলে আয়াকে ডেকে নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর সামনে তার কথা রেকর্ড করে কতগুলো কাগজে স্বাক্ষর নেন অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবীশ। পরবর্তী সময়ে ভিক্টিমকে ফোন দিয়ে মোস্তফা কামাল খোশনবীশ তার নতুন বাসায় মেয়েকে স্কুলে নিয়ে আসার কাজ এবং অসুস্থ স্ত্রীকে দেখাশোনা করলে আয়াকে তার আগের চাকরিতে পুনরায় নিয়োগ দিবেন বলে জানান। আর তার কথা না শুনলে ধর্ষণের ভিডিও সবার কাছে ছড়িয়ে দিবেন বলে হুমকি দেয়া হয়। এ অবস্থায় জুলাই মাসের ১৭ তারিখে বেলা ৩টায় মোস্তফা কামাল খোশনবীশের স্ত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমানো অবস্থায় আয়াকে আবারো জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে ভিকটিম গত ৩১ অক্টোবর অভিযোগ করেছেন আদালতে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষক তার অবৈধ নিয়োগ, আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, অডিট ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর তথ্য প্রমাণ দিয়ে আবেদন করেন। মাস্টার্সের জাল সনদ দিয়ে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ হয়ে কয়েক লাখ টাকা বেতন ভাতা উত্তোলন করলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ায় তিনি শিক্ষকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রকাশ্য হুমকি দেন। ইলিয়াস মোল্ল্যার অবৈধ প্রভাব খাঁটিয়ে পল্লবীর প্রায় সব স্কুল কলেজের নিয়োগ কমিটিতে সদস্য হতেন এবং শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হয়েও ৪-৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

শেয়ার করুনঃ