এম,শাহজাহান,শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রভাবশালীর উল্টো মামলায় জামিনে এসেও পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক দরিদ্র পরিবার। জানা গেছে, নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পিয়ার আলীর বোন বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী সেলিনা আক্তারের বাড়ির পাশে,একই গ্রামের হোটেল শ্রমিক মিন্টু মিয়া ও গার্মেন্টস কর্মী ফাতেমা বেগম,স্বামী স্ত্রী মিলে চাকরি করে ১০শতাংশ জমি কিনে ১ছেলে ১মেয়েসহ ৪সদস্যের একটি পরিবার বসবাস করে আসছিল। ওই জমির উপর লোভ জাগে বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী সেলিনা আক্তারের। ভাই বিএনপি নেতা পিয়ার আলীর দাপট দেখিয়ে মিন্টু মিয়ার জমিটা ক্রয় করার জন্য সম্প্রতি প্রস্তাবও দিয়েছিলেন সেলিনা আক্তার। কিন্তু মিন্টু মিয়া রাজি হননি,অভিযোগে প্রকাশ, এরপর থেকে হোটেল শ্রমিক মিন্টু মিয়াকে তার বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে পিয়ার আলীর বোন সেলিনা আক্তার ও তার পরিবারের লোকজন বেশ কিছু দিন ধরে মিন্টু মিয়ার সাথে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। গত ৭ ডিসেম্বর শনিবার সকালে মিন্টু মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাড়ির সামনে রাস্তায় বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন। এসময় সেলিনা আক্তারের মেয়ে জামাই মোস্তাফিজুর রহমান, ফাতেমা বেগমকে মশকরাভাবে উত্ত্যক্ত করেন। ফাতেমা বেগম মশকরা না করার জন্য প্রতিবাদ করে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে, বিএনপি নেতা পিয়ার আলীসহ তার লোকজন ফাতেমা বেগমেকে বেধড়ক মারধর করে। ফাতেমা বেগমের স্বামী মিন্টু মিয়া ও আশপাশের লোকজন ফিরাতে এলে তাদেরকেও মারধর শুরু করে। উভয়পক্ষের মারামারিতে গুরুতরভাবে আহত হন ফাতেমা বেগম ও তার স্বামী মিন্টু মিয়া। অপরদিকে আহত হন শেলিনা আক্তারের মেয়ে জামাই মোস্তাফিজুর রহমান। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রভাবশালী বিএনপি নেতা পিয়ার আলীর বোন বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী সেলিনা আক্তারের ডাকে সারা পেয়ে তৎক্ষানিক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। শুধু পুলিশই নয়, চলে,আসেন সেনাবাহিনি। সেনাবাহিনী মিন্টু মিয়ার চাচাতো বোন জেসমিন (২০) নামে এক গৃহবধূকে আটক করে থানা পুলিশে হস্তান্তর করে। এব্যাপারে পিয়ার আলীর বোন সেলিনা আক্তার বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে, মিন্টু মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এবিষয়ে ফাতেমা বেগমের অভিযোগটি মামলা না হয়ে উল্টো মামলা হয় সেলিনা আক্তারেরটি। মামলা দায়ের করার পর থেকেই অপর ৩ আসামিকে গ্রেফতারের জন্যে ডেফলাই গ্রামে চলে বিরতিহীন পুলিশি অভিযান। এক পর্যায়ে উক্ত মামলার আসামি মিন্টু মিয়ার চাচা দিনমজুর ইউসুব আলী, চাচি শিউলি বেগম ৯ ডিসেম্বর আদালত থেকে জামিনে আসেন। কিন্তু জামিনে আসার পরেও বিএনপি নেতা পিয়ার আলী ও তার লোকজনের ভয়-ভীতি ও হুমকির মুখে ইউসুফ আলী বাড়িতে থাকতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অপরদিকে ফাতেমা বেগমের দেয়া অভিযোগটি এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এছাড়া পুলিশী গ্রেফতার এরাতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন হোটেল শ্রমিক মিন্টু মিয়া। বর্তমানে মিন্টু মিয়ার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান। এব্যাপারে বিএনপি নেতা পিয়ার আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল আমিন বলেন ফাতেমা বেগমের অভিযোগ পাওয়া গেছে, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন