
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পের আওতায় ল্যাট্রিন পেতে শ্যামপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য শাহজাহানকে ‘ঘুষ’ দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ল্যাট্রিন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই ইউপি সদস্য অসহায় পরিবারগুলোর কাছ থেকে ল্যাট্রিন প্রতি ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ভোক্তভোগী লোকদের বলেছেন পাকাঁ ল্যাট্রিন ও গোসলখানা দেওয়া হবে। সেজন্য কিছু অফিস খরচ লাগবে। ৬০ হাজার টাকার জিনিস পেলে কিছু দিতেই হবে। সাধারণ লোকদের এসব লোভনীয় কথা বলে ইউপি সদস্য শাহজাহান কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
উপকারভোগী রবিরন বেগমের সাথে কথা হলে জানা যায়, পাকাঁ ল্যাট্রিন দিবে বলে মেম্বার ৬ হাজার টাকা নিয়েছে। কাজ করার পর আরোও বাড়তি টাকা দাবি করছে। তখন রবিরন বেগম বলেছে আমার ল্যাট্রিন লাগবেনা, টাকা ফেরত দাও।
রোকনা নামে আরেক উপকারভোগী নামে ভুক্তভোগী জানান,তার থেকেও ৬ হাজার টাকা নিয়ে ল্যাট্রিন দিয়েছে শাহজাহান মেম্বার।
ওই এলাকার নওশাদের স্ত্রী মুসলিমার নিকট থেকেও ৪ হাজার টাকা নিয়েছে ল্যাট্রিন দেয়ার কথা বলে।
নুরজামালের স্ত্রী জানান,আমাদের ল্যাট্রিন দিতে মেম্বার ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। যখন নাম দিছে তখন বলছে পাকাঁ ল্যাট্রিন দিবে।
শহীদুল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন,যাদের ল্যাট্রিন দিয়েছে তাদের থেকে শাহজাহান মেম্বার টাকা নিয়েছে এমন কথা শুনেছি।
মিনা নামে এক অসহায় নারী বলেন,আমার নিকট ৫হাজার টাকা চেয়েছিলো।টাকা দিতেও পারি নাই।আমাকে ল্যাট্রিনও দেয় নাই।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহজাহানের সাথে কথা হলে জানান,মিথ্যা কথা বলে লাভ নাই। ল্যাট্রিন প্রতি কিছু টাকা নিয়েছি।সমস্যা কইরেন না।আপনাদের (সাংবাদিকদের) সাথে দেখা করমু।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম আলমগীর হোসেন জানান, অনৈতিক লেনদেন হয়ে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।