
মোঃ রাশেদুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধ।। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, রক্তদান, স্বেচ্ছাশ্রমে উন্নয়ন, কর্মমুখী ও মানবিক সেবামূলক বিভিন্ন কাজে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা ভলান্টিয়ারি পুরস্কার-২০২৪ পেয়েছেন পঞ্চগড়ের আল আমিন খন্দকার। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়মূলক ও দাতব্য সংস্থা ভলান্টিয়ারি সার্ভিস ওভারসিজ (ভিএসও বাংলাদেশ) এ পুরস্কার প্রদান করে। গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে সারা দেশ থেকে সেরা ২০ জন ভলান্টিয়ারকে বেস্ট ভলান্টিয়ার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছেন। ভিএসও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিরুল হাসান কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুবাবা খন্দকার, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোকদ্দেম হোসাইন, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন রোলান্ড ফরবেস ইউএনএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর মাসাকি ওয়াটাবে, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি নায়োকা মার্টিনেস ব্যাকস্ট্রোম, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের মানবাধিকারবিষয়ক ডিরেক্টর এলেনা জে ট্যান্সি ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত মি. এন্ড্রে কারস্টেন। বেস্ট ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পাওয়া আল আমিন খন্দকার সামাজিক সংগঠন ‘স্বপ্নছোঁয়া দরিদ্র কল্যাণ তহবিল এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পঞ্চগড় জেলা যুব ফোরামে সভাপতি হিসাবে ২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সংগঠন এবং সংগঠনের বাইরের প্রান্তিক পর্যায়ে মানবিক কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার পান তিনি। স্বেচ্ছাসেবী এই তরুণ পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিনের বাসিন্দা জাকিরুল ইসলামের ছেলে । তিনি নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করছেন।পঞ্চগড়ে দুর্ঘটনা, ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, রক্তশূন্যতার সিজারসহ বিভিন্ন জটিল অপারেশনে রক্তদাতাকে নিয়ে ছুটে চলেন দূর দূরান্তে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে । তিনি ২০১৪ সাল থেকে দীর্ঘ ১০ বছরের স্বেচ্ছাসেবী জীবনে ২৯০০ ( দুই হাজার নয় শত ) ব্যাগেরও বেশি রক্ত মুমূর্ষ রোগীকে সংগ্রহ করে দিয়েছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও মানুষকে সচেতন করতে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় রক্তদানের সচেতনতা তৈরী , থ্যালাসেমিয়া থেকে বাঁচতে সচেতনতা বার্তা, গর্ভবতী মায়ের সন্তান প্রসবের পূর্বেই দুজন রক্তলতা প্রস্তুত রাখার জন্য সচেতনতা তৈরির মতো মানবিক কাজগুলো করে যাচ্ছেন । এ পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ভ্রাম্যমাণভাবে ১১০০০ ( এগারো হাজার ) জনেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করিয়েছেন। বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার মুমূর্ষ রোগীকে অতি দ্রুত রক্ত পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হিমালয়ের পদদেশে অবস্তিত পঞ্চগড় জেলায় শীতার্ত মানুষদের বিগত বছরগুলোতে প্রায় ৪ হাজার মানুষের মাঝে কম্বল ও উষ্ণ কাড় দিয়ে তাদের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেছেন । ২০২০ সালে করোনায় ৬ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়ে জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি ২০২২ এর বন্যায় কুড়িগ্রামে ২৫০ পরিবার কে এবং ২০২৪ এর বন্যায় নোয়াখালীতে ৩৫০ টিরও বেশি পরিবার কে সরাসরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের জীবন মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি সম্পর্কে আল আমিন খন্দকার বলেন, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে স্বেচ্ছাসেবী কাজ শুরু করে দেশের জাতীয় পর্যায় পযর্ন্ত মুল্যায়িত হয়েছি , যা অত্যন্ত সম্মানের এবং আত্মতৃপ্তির। এই অ্যাওয়ার্ড আমার স্বেচ্ছাসেবী কাজের প্রত্যেক অংশীদারি সহযোদ্ধাদের উৎসর্গ করছি, সেইসাথে যারা আমাকে এক যুগের বেশি সময় ধরে স্বেচ্ছাসেবী কাজে অনুপ্ররেণা এবং সাহস দিয়ে আসছে তাদের কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এই অর্জন গর্বের ও অনুপ্রেরণার। আগামীতে এই অর্জন আমাকে আরো শক্তি জোগাবে।