পঞ্চগড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এর গুলিতে আবারো এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছে। তবে এবার পতাকা বৈঠকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। নিহত যুবকের নাম আনোয়ার হোসেন (৪০)। সে তেতুঁলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের দেবনগড় এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (০৬- ডিসেম্বর) ২০২৪ খ্রিঃ ভোর রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মোমিনপাড়া সীমান্তের বিপরীত ভারতের শিংপাড়া সীমান্ত এলাকার মেইন পিলার ৭৫১ এর সাব পিলার ৮ এবং ৯ এর মধ্যবর্তী পিলারের মাঝামাঝি এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে ভারতে গরু আনতে যান আনোয়ার হোসেন। শুক্রবার ভোরে গরু নিয়ে ফেরার পথে ভারতীয় সীমান্তের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চানাকিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁদের ধাওয়া করে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা। নীলমারী ব্যাটালিয়নের অধীনস্ত পঞ্চগড়ে'র ঘাগড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরাও ঘটনাস্থলের বিপরীতে বাংলাদেশের ৫০গছ অভ্যন্তরে মমিনপাড়া নামক স্থানে চোরাকারবারি প্রতিহত করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১৫ গছ ভিতরে একটি লাশ দেখতে পায়। পরে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশের প্রাথমিক সুরত হাল শেষে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় সদর থানায় নিয়ে আসে। পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিহত আনোয়ার হোসেন এর পরিচয় নিশ্চিত সহ লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মো. বদরুদ্দোজা বলেন, সীমান্তের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পরে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়েছে।