
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আ্যম্বুলেন্স বানিজ্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের কারনে জিম্মি হয়ে রোগীর স্বজনদের চড়া দামে বেসরকারি আ্যম্বুলেন্সের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। হাসপাতালে বেপরোয়া আ্যম্বুলেন্স বানিজ্য বন্ধে নিরব হাসপাতাল কতৃপক্ষ। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিভিন্ন অনিয়মে কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে। আ্যম্বুলেন্স বানিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজারের অধিক রোগী সেবা নিতে আসে। প্রতিদিনই অ্যাম্বুলেন্সের দরকার হয় অসংখ্য রোগীর। অথচ জেনারেল হাসপাতালটিতে রয়েছে মাত্র ১টি অ্যাম্বুলেন্স। তাও আবার এটি বছরের কয়েক মাস থাকে নষ্ট। এদিকে জরুরি বিভাগে সরকারি আ্যম্বুলেন্সের দুই চালক মনির ও জসিমের মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকলেও তাদের পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।
অভিযোগ রয়েছে, চালক মনির ও জমিসের যোগসাজশে চলে পুরো হাসপাতালের সিন্ডিকেট বানিজ্য। পেশায় তারা সরকারি হাসপাতালের আ্যাম্বুলেন্স চালক হলেও তাদের নিজেদেরও ব্যাক্তিগত ভাবে আ্যম্বুলেন্স রয়েছে৷ যেটা সারাক্ষণ জেনারেল হাসপাতাল চত্তরেই থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীর স্বজন জানান, জরুরি প্রয়োজনে চালকদের কল করলে তারা নানান অযুহাত দেখান। পরক্ষণেই প্রাইভেট আ্যম্বুলেন্সের কথা বলে ফোন কেটে দেয় তারা। গত বৃহস্পতিবার আমার ছোট ভাই হোন্ডা এক্সিডেন্ট করে। জরুরী বিভাগ থেকে তাকে ঢাকায় রেফার করা হলে আমি সরকারি আ্যম্বুলেন্স চালক মনির কে ফোন দেই। উত্তরে তিনি জানান, আমি রোগী নিয়ে ঢাকাতে আছি।
আরেক রোগীর স্বজন জানান, চালকদের ফোন করলে তারা কল রিসিভ করে না। বিভিন্ন অযুহাত দেখান। কখনো বলেন, আজকে আমার ডিউটি না ইত্যাদি। মুমূর্ষু রোগীর স্বজনরা রোগীকে বাচাতে বাধ্য হয়ে চড়া মূল্যে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের উপর নির্ভর করে।
এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত কয়েক দিনের অনুসন্ধানে গত বৃহস্পতিবার রোগী সেজে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের কল করে গণমাধ্যম কর্মী নিজেই। বৃহস্পতিরার ডিউটিতে থাকা চালক মনির জানান, আমি রোগী নিয়ে ঢাকাতে আছি। অথচ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের কম্পাউন্ডের ভিতেরেই ছিল। বিষয়টি স্বীকার করে মনির বলেন, আমি ঢাকাতে আছি। আপনাদের সাথে দেখা করবো।
কল করা হয় চালক জসিম কেও। বৃহস্পতিবার তিনি ছুটিতে থাকলেও গণমাধ্যম কর্মীকে তিনি রোগী নিয়ে বাহিরে আসতে বলে। পরে তার ব্যাক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে তিনি নিজেই ঢাকায় যান। যার কন্ট্রাক করা হয় সাড়ে তিন হাজার টাকা। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। বলেন, ব্যাক্তিগত কাজে ঢাকাতে যাচ্ছি।
সরকারি হাসপাতালে ব্যক্তি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্যের কথা এখন ওপেন সিক্রেট। অথচ হাসপাতালটির পশ্চিম পাশের ভবন থেকে জরুরি বিভাগ ও নতুন ভবনের সামনের পুরো রাস্তাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে ৮/১০ টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট নিজাম উদ্দিন আহমেদ হেলাল এ বিষয়ে জানান, চালকদের বিষয়ে অভিযোগ শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।