ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পটুয়াখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় আনসার কমান্ডার নিহত
পাঁচবিবিতে আওলাই ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
আত্রাইয়ের কচুয়া মধ্যপাড়া ইসলামীক সম্মেলন
মিরসরাইয়ে পাঁচ বছরেও উদঘাটন হয়নি গৃহবধূ মুন্নী হ*ত্যার রহস্য , ক্ষুদ্ধ ভুক্তভোগী পরিবার
প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথা সম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে :অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে কৃষকদলের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলন ও সাংস্কৃতি সন্ধ্যা 
নওগাঁয় মাটিবাহি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু
ভূরুঙ্গামারী ফাযিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রদের ঈদ পূর্ণমিলনী
কুয়াকাটা সৈকত দখল করে ঝুকিপূর্ণ মার্কেট নির্মানের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কেমন কুড়িগ্রাম দেখতে চাই শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বোদায় ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
সরাইলে অভিযানে ৩ হত্যা মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ৯
বাগমারায় চুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু:ঘাতকে পিটিয়ে হত্যা করলো উত্তেজিত জনতা
নড়াইলে বিএনপি নেতা সান্টুর উপর ককটেল হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ
লাখো পর্যটকের সমাগম কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। শতভাগ হোটেল মোটেল বুকিং

ঘোড়াঘাটে বধ্যভূমির তালিকায় নেই ‘শানাই পুকুরের নাম’

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ,ঘোড়াঘাট(দিনাজপুর): দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বধ্যভূমির তালিকায় নেই শানাই পুকুরের নাম। স্বাধীনতার ৫৩ বছর অতিবাহিত হলেও শহীদদের জন্য র্নিমিত হয়নি কোন
স্মৃতিস্তম্ভ বা বদ্ধভূমি ফলক। স্বজনদের দাবী স্মৃতিস্তম্ভ-বদ্ধভূমি
ফলক র্নিমানের।মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বাঙালিদের গণহত্যার পর এর চিহ্ন মুছে ফেলতে অসংখ্য লাশ গুম করেছে। তারা বাঙালিদের র্নিযাতন ও হত্যার জন্য বিশেষ বিশেষ স্থান বেছে নিয়েছিল।পাকিস্তানিরা বাঙালি হত্যায় সব সময় বুলেটও ব্যয় করেনি। তারা কখনও বেয়োনেট দিয়ে, কখনও ধারালো ছুরি দিয়ে র্নিমমভাবে মানুষ জবাই করেছে।
বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছিল মানব সন্তানের লাশ। হত্যার পর হতভাগা মানুষের মৃতদেহ ফেলে দেয়া হয়েছে খাল-বিল-নদীতে।যেখানে নদী ছিল না সেখানে তারা মৃতদেহগুলো মাটিচাপা দিয়েছে। ফলে হত্যার চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য নদী বা খালে লাশ ফেলে দেয়া ঘাতকদের কাছে সহজ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।একাত্তরের নয় মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসররা এ ভাবে গণহত্যার চিহ্ন অনেকটাই মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। ইতোমধ্যেই বহু গণকবরের ওপর দালান কোঠা ঘর বাড়ি তোলা হয়েছে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বনজঙ্গলে ঢাকা পড়ে অযত্ন-অবহেলায় অনেক গণকবর আজ লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে গেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বাঙালিদের হত্যা করে যেসব স্থানে তাদের
মৃতদেহ মাটিচাপা দিয়েছিল,ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই সে সব বধ্যভূমি ও গণকবর শনাক্ত করা জরুরি। জেলা উপজেলা ভিত্তিক এ সব বধ্যভূমি ও গণকবর শনাক্ত করার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের র্নিমমতার বহু মাত্রিকতা সর্ম্পকে কিছুটা হলেও ধারণা লাভ সম্ভব হবে বলে মনে করে স্বজনরা।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এমনি এক হত্যা যঞ্জ চালিয়েুছল দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার বলাহার গ্রামে।স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা বলাহার উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদসায় স্থাপিত করেছিল ক্যাম্প।ওই ক্যাম্পে ধরে এনে হত্যা করে শত শত বাঙালিকে।ক্যাম্পের র্পাশ্বে শানাই পুকুরের চারটি পাড়ে পুতে রেখেছিল ◌্অসংখ্য মানুষের মরদেহ।এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিক্ষিপ্ত ভাবে গণ কবর। শানাই পুকুর এখন উপজেলার মানুষের দুঃখ আর যন্ত্রনার ইতিহাস। এ কারনে ক্যাম্পটির নাম রাখা হয়েছল জল্লাদ খানা।ঘোড়াঘাট থেকে ছাতিনালী ক্যাম্পে পাক সেনাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার
জন্য ঘোড়াঘাট উপজেলার কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা ভারতের হিলি সীমান্ত দিয়ে পার হয়ে এসে রাতের আঁধারে ঘোড়াঘাট উপজেলার ঘোড়াঘাট হিলি সড়কে তোষাই জোড়গাড়ী ও চোরগাছা নামক গ্রামের মাঝ খানে একটি ব্রীজে ডিনামাইট স্থাপন করে।পর দিন সকালে একটি পাক সেনা অফিসারের জীপ পার হওয়ার সময়
ডিনামাইটটি বিস্ফোরিত হয়। ডিনামাইটটি বিস্ফোরনে ব্রীজসহ জীপটি উড়ে যাওয়ার সংবাদে পাক হানাদার বাহিনীর মাথায় খুন চেপে যায়। সেদিনই প্রায় ৬/৭ হাজার পাক সেনার একটি ক্যাম্প বলাহার হাইস্কুলে স্থাপন করা হয়। হাইস্কুলের পাশেই ছিল একটি মাদরাসা। মাদরাসাটি ছিল মাটির ঘর। এই ঘরের ভিতরেই বাঙ্গালিদের ধরে এন র্টচার করা হয়। ঘরটির নাম রাখা হয়
র্টচার সেল ।এর পর থেকে শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। ওই মাদরাসার মাটির ঘরের পাশেই ছিল শানাই পুকুর। পাক সেনাদের শারিরীক র্নিযাতনে যন্ত্রনায় ও হত্যাজজ্ঞে নিহত বাঙালিদের ওই শানাই পুকুরে চারটি পাড়ে পুতে রাখা হয়েছে সেই সব শহীদদের। স্বজনরা অনেকেই চেয়েছিলন শহীদের রক্তে রঞ্জিত শানাই পুকুরে তাদের
হারানো মানুষগুলোর জন্য স্মৃতিস্তম্ভ বা বদ্ধভূমি ফলক। স্বাধীনতার ৫৩ বছর অতিবাহিত হলেও শহীদদের জন্য র্নিমিত হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ বা বদ্ধভূমি ফলক। শানাই পুকুরের শহীদের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে কোন স্মৃতিস্তম্ভ বা বদ্ধভূমি হিসেবে তালিকায় নাম রাখা হয়নি। স্বজনদের দাবী শহীদের রক্তে রঞ্জিত শানাই পুকুরে তাদের হারানো মানুষগুলোর জন্য স্মৃতিস্তম্ভ বা বদ্ধভূমি ফলক র্নিমানের।

শেয়ার করুনঃ