ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক-বাবরসহ সব আসামি খালাস

ডেস্ক রিপোর্ট : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামি খালাস পেয়েছেন।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রায় দেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দলটির ২৪ জন মারা যান। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেয়। রায়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমান, বিএনপি নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়।

আইনজীবীদের তথ্য মতে, ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের সাজা কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এজন্য মামলার বিস্তারিত নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। আসামিরা আপিল ও জেল আপিলেরও সুযোগ পান। অন্যদিকে যাবজ্জীবনসহ অন্য মেয়াদে দন্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে আপিল ও ক্ষেত্র বিশেষে জেল আপিল হয়। তবে, সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ নেই। ২১ আগস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার যাবতীয় নথি ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আসে। মামলায় মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ৪৪টি আপিল ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে পেপারবুক (বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি হলেও সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারকের অসুস্থতা ও বেঞ্চ পুনর্গঠনের কারণে দীর্ঘদিন শুনানি হয়নি। গত ৩১ অক্টোবর আবারও শুনানি শুরু ও শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এলো।
যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দা নজরদারিতে বাংলাদেশি ২০ ব্যবসায়ী, গ্রেপ্তার ২যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দা নজরদারিতে বাংলাদেশি ২০ ব্যবসায়ী, গ্রেপ্তার ২ ঘটনার পূর্বাপর ও বিচারিক আদালতের রায় : ২০ বছর আগের এই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের (প্রয়াত) স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের জুনে বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। তবে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাটিতে নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে। তবে, আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শাহেদুল ইসলাম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ায় আসামি হন ৪৯ জন। বিচারিক আদালতের রায়ে সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির মাওলানা শেখ আবদুস সালাম (কারাগারে মৃত্যু), আবদুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জ্বল, এনএসআইর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (কারাগারে মৃত্যু), হানিফ পরিবহনের মালিক ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ। আসামিদের দন্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন তারেক রহমান, বিএনপির চেয়ারপাসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (ইতিমধ্যে মারা গেছেন), বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ (কারাগারে মৃত্যু), মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু। এ ছাড়া বিচারিক আদালতের রায়ে আলামত গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আশরাফুল হুদা, শহুদুল হকসহ বেশ কয়েকজন সেনা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দুই বছর থেকে তিন বছর মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়।

শেয়ার করুনঃ