জেলার রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়নের চরলক্ষী ও সিকান্দারকান্দি গ্রামের বিল পর্যন্ত পানি নিস্কাশনের একমাত্র খালটি মেম্বারের সহযোগিতায় দখল করে বাড়ি প্রবেশের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ২ নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়নের তিন গ্রামের কয়েকশত বিঘা পসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মেম্বারের সহযোগিতায় প্রভাবশালী জুয়েল খালটি দখল করে বাড়ি প্রবেশের জন্য রাস্তা নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।এ নিয়ে গ্রামবাসী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও তহশিলদারের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোন সুফল পায়নি ভুক্তভোগী কৃষকরা।
ভুক্তভোগীদের দাবী অবিলম্বে খালটি পুনঃখনন না হলে যেকোনো মুহূর্তে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। আষাঢ় - শ্রাবণের টানা বর্ষণে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় হালকা বৃষ্টিতেই রাস্তার উপরে জমে থাকে হাঁটুজল পানি।এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ২নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের স্বপন মেম্বারের সহযোগিতায় সিকান্দারকান্দি সাবেক বিএনপি নেতা মৃত মান্নার সরকারের বাড়ির সামনে প্রভাবশালী জুয়েলের নতুন বাড়িতে যাওয়ার জন্য খালটির একাংশ ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এর পূর্বেও আরও চার পাঁচজন প্রভাবশালী নেতারা বাড়ি প্রবেশের জন্য রাস্তা নির্মাণ সহ খালটি দখল করে একটি ভবনও নির্মাণ করেছে বলে জানান তারা। এতে পানি জমে ৫ গ্রামের কয়েকশ বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়লে ব্যবস্থা নেয়নি পরিষদ।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি দখলের পর রাস্তা নির্মাণ করায় সারা বছর কয়েকশ বিঘা জমিতে পানি জমে। এতে জমিগুলো অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ‘আমাদের গ্রামসহ পাশের তিনটি গ্রামের মানুষের কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি আছে এই বিলে। পানি জমে থাকার কারণে আমরা রবিশস্য বপন করতে পারিনি।’ এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক পরিবারের সমস্যা হয়। গ্রামের কৃষকরা আরও বলেন, মেম্বার স্বপন ও চেয়ারম্যানের কাছে কয়েকবার অভিযোগ দিলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। বরং উলটো মেম্বার প্রভাবশালী জুয়েল মাঝির পক্ষে ওই খালে বালু দিয়ে ভরাট করে রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা করছেন। অন্যদিকে চরলক্ষ্মী ও সিকদারকান্দি গ্রামের মাসুদ, কবির হোসেন ও আব্দুর রহিম অবিলম্বে খালটি পুনঃখননের দাবি জানান। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও বালু ব্যবসায়ী স্বপন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী জুয়েল সিকদার বলেন, ‘শুধু আমরা না, আরও কয়েকজন প্রভাবশালী খালের আংশিক দখল করেছেন।’ আমরাও খালটি সংস্কার চাই।
২নং ইউনিয়নের তহশিলদার আরিফ জানান, খালটি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে আমরা তা জানিনা। সাংবাদিকদের থেকে জানার পর যারা দখল করেছপ তাদের একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনজন দাশ বলেন, ‘এ বিষয়ে চরলক্ষ্মী গ্রামের কৃষকদের থেকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে নির্দেশ দেওয়া হবে।’