
সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে বিশুদ্ধ খাবারের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু শরীরকে আমরা কতটুকু বিশুদ্ধ খাবার দিতে পারছি বর্তমানে সেটা বেশ উদ্বেগের বিষয়। খাবারের বিশুদ্ধতার মানদ-ের প্রশ্ন আজ সবখানেই।খাবার হোটেল রেস্তোরাঁয় গুলোতে দিনশেষে যা অবশিষ্ট থাকে তা পরের দিন বিক্রি করা হয়।
তার প্রমাণ মিললো বাঙ্গালহালিয়া বাজারের উত্তরে ব্রিজের পাশে জাফর কুলিং কর্ণারে।এক ক্রেতা জানান সিংগারা খাওয়ার সময় সিংগারা ভিতরে সমুচা প্রলেপ দিয়ে কাষ্টমারদের খাওয়ানো হয়। তাও আবার এক দিন আগেই বিক্রি না হওয়ায় সমুচা প্রলেপ দিয়ে সিংগারা গুলো বিক্রি করা হয়। ঐ দোকানের মালিকের ছেলে বলেন আমরা সিংগারা ও সমুচা সরবরাহ করি বাঙ্গালহালিয়া বাজারের আলিফ লাম মীম থেকে।স্কুল ছাত্রী নাজমুস সামার মা বলেন, বাসি, খোলা ও পচাঁ খাবারের প্রতি শিশুদের ভীষণ আগ্রহ থাকে। বাসায় যত মজার খাবারই থাক না কেন, স্কুল ছুটির পর এ খাবারগুলো তাদের চাই-ই চাই। আর আমরা বিব্রত না হতে তাদেরকে এ খাবার কিনে দিতে হয়।
আরেকজন ক্রেতা বলেন,বাইরে থেকে দেখতে ভালো ও উন্নতমানের আসবাবপত্রসমৃদ্ধ হোটেল রেস্তোরাঁগুলোর পেছনের দিকে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ একেবারে খোলামেলা হয়ে গেছে।হোটেল মালিকেরা নিম্নমানের খাবার দিয়ে অধিক মুনাফা করছেন।বাজারে বেশির ভাগ হোটেল রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছে। সম্প্রতি একাধিকবার অভিযান চালানোর পরও এসব চায়ের হোটেলে সরবরাহ করা হচ্ছে বাসি ও নিম্নমানের খাবার। এর প্রতিকার হিসেবে আবারও অভিযানের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
বিষয়টি সম্পর্কে আলাপকালে ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা বলেন, আমাদের এ বাজারটি একটি জনবহুল বাজার। এ বাজারে রাঙ্গুনিয়া, রাজার হাট, কোদালা শিলক, রাইখালী কারিগর পাড়া, ইসলামপুর শফিপুর এলাকা হতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন আসে, তারা প্রতিনিয়িত ভেজাল খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি ও বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে কয়েকবার সেমিনার করেছি। কিন্তু অসাধু চা ও ভাতের হোটেলের মালিকগণ মনগড়া ভেজাল নাস্তা বিক্রি করে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শান্তনু কুমার দাশ বলেন, আমরা জানি প্রতিটি হোটেল রেস্তোরাঁয় পচাবাসি ও নিম্নমানের খাবার বিক্রয় করা হচ্ছে। এজন্য রাজস্থলী বাজার, ইসলামপুর, বাঙালহালিয়া সহ কয়েকটি বাজারে বেশ কয়েকবার স্বল্পপরিসরে অভিযান চালিয়েছি। এরপরও কেউ অনিয়মের আশ্রয় নিলে আমরা আবারও অভিযান পরিচালনা করব। এসব অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব ।