সাজ্জাদ হোসাইন শাহীন -জামালপুর প্রতিনিধিঃ
নেই কোন নিয়োগপত্র, ভয় নেই চাকুরী হারানোর। অথচ তাঁর দাপটের কাছে অসহায় মেলান্দহ সাব রেজিষ্টার অফিসের স্টাফ থেকে শুরু করে দলিল লেখকরা। বলা চলে বর্তমান সাব রেজিষ্টার পলাশ তালুকদার সহ সাবেক সকল সাব- রেজিস্ট্রারের সব অবৈধ লেনদেন একাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন নৈশ্যপ্রহরী মোঃশহিদ ।
যদিও দৈনিক ৬০ টাকা মুজুরির চাকরিজীবী তারপরও অনেক সময় দেখা যায় তিনি চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে থাকে অফিসারের মত। কম সময়ে অঢেল সম্পদেন মালিক বনে গেছেন। করেছেন সহায় সম্পদও।
শহীদ দৈনিক ৬০ টাকা বেতনের নৈশপ্রহরী। চলাফেরা দেখলে মনে হবে কোন বড় কর্মকর্তা। সেবাপ্রার্থীরাও তাই ভাবে।যদিও তার দায়িত্ব রাতে কিন্তু তাকে দেখা যায় এজলাস চলাকালিন সময়ে সাব-রেজিষ্ট্রার পলাশ তালুকদারের ঠিক বাম পাশে। সেখানে টেবিলে ভর করে দাঁড়িয়ে থেকে কি এমন কাজ করেন আর কেনই বা সাব-রেজিষ্ট্রার একজন নৈশপ্রহরীকে এত ঘনিষ্ঠ ভেবে প্রশ্রয় দেন প্রশ্ন জনমনে? নেই কোন নিয়োগপত্র, ভয় নেই চাকুরী হারানোর। অথচ তার দাপটের কাছে অসহায় সাধারণ মানুষ ও দলিল লেখক। বলা চলে সব কিছু সেই নিয়ন্ত্রণ করে।দলিল সম্পাদন, বালাম বহির অনাধিকার চর্চা আর তল্লাশী প্রতিবেদনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে নৈশপ্রহরী মোঃ শহিদের বিরুদ্ধে। তার কথাবার্তায় মনে হয় দাপ্তরিক কার্যক্রম যেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এমন একটি ভিডিও ক্লিপও পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, শহীদ বিভিন্ন কাগজপত্র এজলাস থেকে খাস কামরায় নেওয়া আসা করেন হরহামেশাই ।
যদিও নির্দেশনা নেই অফিস চলাকালিন এই বালাম বহি পর্যবেক্ষণের। এছাড়া দলিল সম্পাদনের আগে কর্মচারী না হয়েও সাব-রেজিস্ট্রার গণের পক্ষে মহুরীদের থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন।বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রারের আস্থাভাজন হওয়ায় মোঃ শহিদের মাধ্যমে সকল লেনদেন করা হয়। সে থেকেই আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান মোঃ শহিদ ।
বাড়ি ও জমি রয়েছে। রয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্সও। যার সবই দুর্নীতির মাধ্যমে রোজগার করা টাকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ বলেন,অফিস চালায়ি শহীদ।তাকে স্যার ডাকতে হয়।রেকর্ড রুম ছাড়া সকল চাবি থাকে তার কাছে।দিনের বেলায় অনেক সময় রেকর্ড রুমের চাবিও তার নিকট থাকে। এক-চতুর্থাংশ নকল বিতরণ হয় মোঃ শহিদের মাধ্যমে। এ কাজে সাব-রেজিস্ট্রার ও প্রধান সহকারীর সহযোগিতা রয়েছে।
নৈশ্যপ্রহরী মোঃ শহিদের সাথে কথা হলে জানান,দীর্ঘদিন থেকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আছি।আপনাদের কাজ করেই যা ইনকাম হয়েছে। তা দিয়েই বাড়িঘর করেছি। সাব রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার জানান, শহীদ আমার অফিসের মাষ্টাররোলের নৈশপ্রহরী। অফিসের দাপ্তরিক কাজে সহায়তার জন্য দিনের বেলায় তাকে দিয়ে কাজ করানো হয়।তার বিষয়ে কোন জানার থাকলে তার সাথে কথা বলবেন।এ বিষয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুরের পরিচালক মলয় কুমার সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা কমিশনে পাঠাবো, কমিশন অনুমতি দিলে এ বিষয়ে অবশ্যই অনুসন্ধান করবো। ’