
খেজুর রসের গুড়-পাটালির চাহিদা থাকলেও নড়াইলে দিন দিন কমছে খেজুর গাছ। যে গাছ গুলা আছে তাতেও মিলছে তেমন রস। খেজুরের গুড়-পাটালির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও মিলছেনা গুড় তৈরির কাঁচামাল খেজুর রসের। শীত শুরুর সাথে সাথে খেজুর গাছ কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। আর কয়েকদিন পরেই খেজুর গাছ থেকে গাছিদের নামানো রসে তৈরি হবে গুড় ও পাটালি।
একারনে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। নড়াইল সদর উপজেলার সরসপুর গ্রামের গাছি রবিউল ইসলাম বলেন, খেজুর রস সংগ্রহের মৌসুম আসলেই আমি খেজুর রস সংগ্রহ করার জন্য গাছ কাটি।
গত বছর ৮০টি খেজুর গাছ কাটছিলাম, গাছের মালিকদের রস দেওয়ার পরেও আমি ৫০ হাজার টাকার রস ও গুড় বিক্রি করছি। এবারও আমি ৮০ টি খেজুর গাছ কাটছি। এবার রস ও গুড়ের দাম একটু বেশি হবে বলে আশা করছি সবকিছু ঠিক থাকলে এবার আমি ৮০টি গাছ থেকে ৮০ হাজার টাকার রস ও গুড় বিক্রি করব। গুপিকান্তপুরের আরেক গাছি মতিন মিয়া বলেন, তিনি ২২ বছর ধরে খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করেন। বাজারে খেজুর গুড়-পাটালির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দিন দিন খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় চাহিদা মত গুড়-পাটালি তৈরি করতে পারছেন না। মাইজপাড়া এলাকার হাবিবুল্লাহ নামের এক বাসিন্দা বলেন, শীতকালে পিঠা, পায়েস, ক্ষিরের জন্য খেজুর রস ও গুড় অপরিহার্য। খেজুর রস ও গুড়ের তৈরি পিঠা-পায়েসের স্বাদই অতুলনীয়। তবে দুঃখের বিষয় দিন দিন কমে যাচ্ছে এই খেজুর গাছ।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, নড়াইলের মাটি খেজুর গাছের জন্য খুবই উপযুক্ত। তবে দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের উদ্যোগে জনসাধারণকে খেজুর গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।