
মোঃমাহফুজুর রহমান বিপ্লব। ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
চোরাই গাড়ি ক্রয় বিক্রি, পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে ব্যবহার করা, ভোয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বিক্রি করা, একাধিক মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে পথ শিশুদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করা, ব্যবসার নাম করে বন্ধুদের নিকট হতে টাকা ধার নিয়ে পরে অস্বীকার করা। টাকার বিনিময়ে অপরাধী সহ নিরীহ লোকদের মোবাইল নাম্বার ট্রাক করা সহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত মোঃ এনায়েত কামাল (নাহিদ)।দিনাজপুর জেলা,সদর থানা, রাজারামপুর গ্রামের মোঃ হাবিবুর ইসলামের পুত্র।মোঃ এনায়েত কামাল(নাহিদ)। স্ত্রী পুলিশের কনষ্ট্রেবল পদে চাকুরি করেন। সেই সূত্রে তিনি ঢাকা যাত্রাবাড়ি পুলিশ কোয়ার্টার গোলাপ বাগ ধুনু ভবন ২য় তলায় স্ত্রী মৌসুমি আক্তারে সাথে থাকেন।তবে বর্তমান মোঃ এনায়েন কামাল নাহিদ কোথায় আছেন সেটা প্রকাশ করতে অস্বীকার প্রকাশ করেন, এবং স্ত্রী ঢাকা গাজিপুরে চাকরি করলেও কোথায় আছেন সেটা বলতে অস্বীকার প্রকাশ করেন।অভিযোগ আছে এনায়েত কামাল নাহিদ প্রতারণা সময় তিনি নিজেকে কখনো পুলিশের কনষ্ট্রেবল,কখনো সিভিল, কখনো শিক্ষক,কখনো ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে থাকেন বিভিন্ন মানুষের কাছে।তিনি পুলিশ কনষ্ট্রেবল পদে ৭ থেকে ৮ বছর কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় তিনি বাংলাদেশে বেশি কিছু জায়গায় বদলি হয়। সর্বশেষ কক্সবাজার এলাকায় চাকরি করার সময় অবৈধ মালামাল আটক করেন তিনি।তবে সেই মালামাল সরকারে কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেন। এবং সেই কারণে তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। চাকুরি হারিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতি নেন লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা। তার সহযোগি হয়ে কাজ করেন স্ত্রী পুলিশের কনষ্ট্রেবল মৌসুমি আক্তার।নাহিদের প্রতারণা শিকার হয়ে অসহায় হয়ে আইনের দারপ্রান্তে সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ফিরছেন,ফরিদপুর জেলার সদর থানা, গোয়ালচামট মোল্যাবাড়ী সড়কের মৃত আরজান আলীর পুত্র মোঃ নাছিরুল কবির।তিনি এই প্রতিবেদকে জানান,মোঃ এনায়েত কামাল (নাহিদ) এর সাথে একটি ব্যবসায়িক কাজের মাধ্যমে পরিচয় হয়। তিনি আমার কাছে পুলিশের কনষ্ট্রেবল পদে চাকুরি করেন বলে পরিচয় দেন।
এক পর্যায়ে তার সাথে আমার একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এর ফলে তিনি আমার কাছ থেকে মাঝে মধ্যেই টাকা ধার নিতেন। আবার সঠিক সময়ে ফেরত দিতেন। হঠাৎ একদিন তিনি আমার কাছে ফোন করে জরুরি ভিক্তিতে ৩,৪০,০০০/- লক্ষ টাকা ধার চাই।এবং কিছুর দিনের মধ্যে ফেরত দিবে বলেন সে জানায়।
আমি সরল মনে বিশ্বাস করে গত ১৬/০১/২০২৩ইং তারিখ আনুমানিক দুপুর ১ টার সময় ফরিদপুর শাখা ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে পঞ্চগড় শাখা ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৩,৪০,০০০/- হাজার টাকা পাঠায়। যার AC ২১ নং১৫১-৭৭১৯৬ জমা ভাউচারের মাধ্যমে।এবং তিনি টাকায় পেয়েছেন বলে জানায়।বেশ কিছু দিন পার হওয়ার পরে টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ের পর সময় নিতে থাকেন।এবং তার আচারণ সন্দেহ জনক মনে হয়। পরে যখন টাকা দাবি করি তখন তিনি টাকা নেয় নাই বলে অস্বীকার করেন এবং আমাকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখায়। এ নিয়ে তার সাথে গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে একটি সালিস হয়। যার একাধিক সাক্ষি রয়েছে। সালিশে সবার কথা অমান্য করার পরে আমি কোন পথ না দেখে গত ১৫/০৪/২০২৪ ইং তারিখে ফরিদপুর বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১নং আমলী আদালতে একটি মামলা করি। যার নং নম্বর ৭৬৩/২৪। সেই মামলায় তার নামে বিজ্ঞ আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করে এবং তিনি জামিন নেন।পরে মামলাটি বিজ্ঞ আদালত বিচারক আদালতে এ হস্তান্তর করা হয়।তিনি আরও জানায়, উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনণালয় আউট অব স্কুল চিল্ড্রেন এ্যাডুকেশন প্রোগ্রাম(পিইডিপি-৪) ( সাব কম্পোনেন্ট ২.৫) আওতায় সাড়া দেশে পথ শিশুদের জন্য বাংলাদেশ বিভিন্ন এনজিও এর মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষতে ফরিদপুর জেলা সদরে মহিলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (মউফ) এনজিও এর মাধ্যমে ২০২২ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসের দিকে ১,২০,০০০০০/- টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। এই এনজিও এর লাইন্সেস ধারী মোঃ আরিফ, এই লাইন্সেস ব্যবহার করে প্রকল্প পায় ফয়সাল ও মহাসিন নামে দুই ব্যক্তি। তবে তারা এই প্রকল্পের কর্মকাণ্ড মোঃ এনায়েত কামাল নাহিদ ও হেদায়েতুল্লাহ নিকট বিক্রি করে দেন। এর ফলে তারা বিভিন্ন কলাকৌশলে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে প্রকল্প শেষ করেন বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে মোঃ এনায়েত কামাল নাহিদের মুঠ ফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো সঠিক না,আমি সিভিলে চাকুরি করতাম ইচ্ছা করে ছেড়ে দিয়েছি। আর এনজিওতে আমি সহ আর একজন হেদায়েততুল্লাহ সাথে পাটনার হিসাবে আট মাস কাজ করার পরে ছেড়ে দিয়েছি। এই প্রকল্প কাজের সাথে আর ও অনেকেই জড়িত। তবে এই বিষয় নিয়ে একটু ঝামেলা সৃষ্টি হলে পরে থানা পুলিশের মাধ্যমে মিমাংসীত হয়।তিনি আর ও জানান,আমি কখনো অবৈধ গাড়ির বেচাকেনার চক্রের সাথে জড়িত ছিলাম না। আমি মোঃ নাছিরুল কবিরের কাছ থেকে কোন ধরনের টাকা পয়সা ধার হিসাবে নেয় নাই। আমার নামে মিথ্যা,বানোয়াট মামলা করা হয়েছে।তবে এনায়েত কামাল (নাহিদের) স্ত্রী বলেন ভিন্ন কথা তিনি বলেন, আমার স্বামী শিক্ষকতা করতেন,পরে ব্যবসা করতেন,এবং এনজিও এর লাইন্সেসের কাজ করেন। পুলিশ বা সিভিলের চাকুরির বিষয়ে কোন কথার উত্তর দেয় না।তিনি জানান মোঃ নাছিরুল কবির আমাদের ব্যবসার ম্যানেজার ছিলেন। আমাদের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন।বরং আমরা টাকায় তিনি আমার স্বামীকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমি কখন কারো কথামত অবৈধ ভাবে কারো নাম্বার ট্রাক করি না। এ সব মিথ্যা বানোয়াট কথা।