
আল আমিন, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা নয়াবিল ইউনিয়নের ভোগাই নদীর তীরবর্তী স্থানে স্থাপন করা হয় নাকুগাঁও স্থলবন্দর।
ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে সাধারণ লোকজন যাতায়াতের জন্য এখানে স্থাপন করা হয়েছে নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। ঐ এলাকার ১৩.৪৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে ২০১৫ সালের ১৮ জুন পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে এই বন্দরটির কার্যক্রম চালু করা হয়।
এখানে কাস্টম হাউজ, ওয়্যার হাউজ ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ভবনসহ এ পর্যন্ত ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই কিন্তু অনুমোদিত মাত্র একটি পণ্য পাথর ছাড়া অন্যসব পণ্য আমদানি না করায় এখনো জমে উঠেনি এই বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই অনুমোদিত আমদানি পণ্য বৃদ্ধি করে এই বন্দরকে আরো গতিশীল করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে এই বন্দরে মানি এক্সচেঞ্জ অফিস স্থাপনের দাবিও জানান।
স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে গবাদিপশু, মাছের পোনা, তাজা ফলমূল, গাছগাছালি, বীজ, গম, পাথর, কয়লা, রাসায়নিক সার, চায়নাক্লে, কাঠ, টিম্বার, চুনাপাথর, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, আদা, বলক্লে, কোয়ার্টজ, শুঁটকি মাছ ও সুপারিসহ ২২টি পণ্য আমদানি ও বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার বৈধপণ্য রপ্তানি কারার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বন্দর চালুর প্রথমদিকে কয়লা ও পাথর আমদানি করতো ব্যবসায়ীরা। পরে দুই এক চালান আদা ও শুকনা মরিচ আমদানি করে নানা জটিলতায় আর এসব পণ্য আমদানি করা হচ্ছে না।
এই বন্দরে ২২টি পণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমদানি করা হচ্ছে একটি পণ্য শুধুমাত্র পাথর। আর বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য রফতানি করা হয় না।
গত ৬ মাসে মাত্র ২০০ মেট্রিক টন সিমেন্ট রফতানি করা হয়েছে ভারতে। যা খুবই কম। তাই দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যৌথ সভায় আমদানি ও রফতানি দুই ধরনের পণ্যই বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এই বন্দরে মোট ২৩০ জন আমদানি রফতানিকারক ব্যবসায়ী রয়েছেন। এরমধ্যে ৬০-৭০ জন ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তারা এই বন্দর দিয়ে কয়লা, পাথর, পেঁয়াজ, রসুন, শুঁটকি মাছ ও তাজা ফলমূল আমদানি করতে চান। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের কাস্টমসের অনাগ্রহের কারণে এসব পণ্য তারা আমদানি করতে পারছেন না।
তারা আরো জানান, এই বন্দরে ওয়্যার হাউজ একদম রেডি করা আছে। এসব পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশে আনলোড করে রাখার কোনো সমস্যা নেই। এরপরও এসব পণ্য আমদানি করা হচ্ছে না। আর কয়লা ও পাথরের পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
আমদানি রফতানিকারক ব্যবসায়ী খান ট্রের্ডাসের মালিক আতিকুর রহমান বলেন, এই বন্দরে ক্লিয়ারেন্স অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট (সিএন্ডএফ) স্বল্পতার কারণে ব্যবসায়ীদের কিছু সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া এই বন্দরে মানি একচেঞ্জ অফিস না থাকায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী পারাপারে টাকা পয়সা ভাংতি করতে সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, এই বন্দরের ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আসাম রাজ্যের মরিগাঁও জেলার জাগিরোড এলাকায় স্থাপিত এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ শুঁটকি মাছের আড়ৎ থেকে শুঁটকি মাছ আমদানি করতে চান। কিন্তু তারা দুই দেশের কাস্টমস অফিসের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তাই ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধান করলে দুই দেশই ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, নাকুগাঁও স্থলবন্দরে বর্তমানে শুধু একটি পণ্য পাথর আসছে। আসলে একটি পণ্য আমদানি করে বন্দর পরিচালনা করা সম্ভব না। এরইমধ্যে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি রপ্তানির কার্যক্রমের প্রধান নিয়ন্ত্রক ও অতিরিক্ত সচিব কাজী রফিকুল ইসলাম বন্দরটি পরিদর্শন করে গেছেন। এই বন্দরের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।