
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে দেওন্দি চা বাগানের বৃহৎ শাপলার বিলে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব সহজেই যে কারও মন কেড়ে নেয় জানি।আর সেখানে যদি দুটি কুঁড়ির একটি পাতা চায়ের রাজধানী খ্যাত বৃহত্তর সিলেটের তুলনা হয়না তবে তো আর কথাই নেই। খুব সহজে চোখে ভেসে ওঠে জাফলং, বিছনাকান্দি আর সাদাপাতরের অপরূপ দৃশ্য। নতুন রূপে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সিলেটের বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রঘুনন্দন গভীর অরণ্যের বন দেওন্দি চা বাগানের শাপলার বিল।
ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা স্বাধীনতার স্মৃতিরাজ্য ও স্মৃতিবিজড়িত সৈয়দ নাসির উদ্দীন সিপাহসালার মুড়া বন্দ ১৬০ আউলিয়ার মাজার, পরীর বিল, গোগাউড়া দীঘি ইত্যাদি।এই সৌন্দর্য ও বিলগুলোকে কেন্দ্র করেই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এখন পর্যটকের কাছে ‘শাপলার রাজ্য’ নামে পরিচিত দেওন্দি শাপলার বিল।দেখা যায় শরৎতের আগমণে শীতের শুরু পর্যন্ত লাল শাপলা তার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য ছড়িয়ে সবাইকে আকর্ষন করে। শাপলার বিল ঘোরার পাশাপাশি চারিদিকে ঘেরা পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য সহজে কেড়ে নেয় পর্যটকদের মন।
এতে করে শীতের মৌসুমে শাপলার বিল ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অন্যতম একটি স্পট হয়ে উঠেছে । কারন শীতের সকালে ফুলে ফুলে লাল হয়ে যায় শাপলার বিল আর কুয়াশার চাদরে মোড়ানো লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে পর্যটকরা।
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে লাল শাপলার বিল যেন রূপসী বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য্য। দেউন্দী বিলে ফুটন্ত লাল শাপলা দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নিয়েছে। ফলে দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন বিশ্বেও পরিচিত নাম লাল শাপলার বিল দূর দূরান্ত থেকে শাপলার মৌসুমে প্রচুর পর্যটক আসেন প্রাকৃতিক এ সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য। ফলে ওই অঞ্চলের মানুষ শাপলার মৌসুমে খানিকটা আয়ের পথও খুঁজে পান। তবে বছরে মাত্র ৩ মাস এ সৌন্দর্য্য থাকে বলে স্থায়ীভাবে গড়ে ওঠেনি পর্যটন কেন্দ্র কিংবা মান সম্পন্ন কোন হোটেল মোটেল নেই ।
হবিগঞ্জ জেলা থেকে প্রায় ২২কিলোমিটার দূরে চুনারুঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের দেউন্দী চা বাগানের বুকে শাপলা বিল
যে কোন পর্যটক এখানে আসলে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।পারে দূরের পাহাড়, সোনালি আকাশ আর পাখির কিচির মিচির ডাক, এ যেন পৃথিবীর অপূর্ব এক টুকরো সৌন্দর্য রাজ্য।
এছাড়াও একাধিক পর্যটক বলেন, শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করার মত,তবে অনেকেই এ সৌন্দর্য কে টেনেটুনে শাপলা সংগ্রহ করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলছে।কারও দ্বারা যেনও এ সৌন্দর্য্য নষ্ট না হয় আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ৮ জনের পর্যটক দলের প্রধান আমির হামজা জানান, ইউটিউবে চুনারুঘাটের লাল শাপলার বিল দেখে তিনি স্বচক্ষে এ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছেন তারা। তবে এ বিলের কাছাকাছি কোন আবাসিক হোটেল, উন্নতমানের রেস্তোরা কিংবা কোন বিশ্রামাগার না থাকায় শহরে হোটেলে উঠেছেন। মূলত খুব সকালে ফুটন্ত শাপলার যে মনোরম দৃশ্য তা উপভোগ করতে হলে সকাল ৬টার মধ্যে এখানে আসতে হয়। তাই তিনি ভোর ৫টায় হবিগঞ্জ থেকে এখানে এসেছেন। সাবেক জেলা হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য জনাব আইয়ুব আলী জানান, খুব শীঘ্রই এখানে পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগার ও ওয়াশরুম স্থাপন করা হবে। বিলকে পর্যটনে রূপান্তরিত করতে পারলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজানান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ করার আমাদের সকলের দায়িত্ব আমি আমার জায়গা থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।