
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের বাকচান্দা আব্দুস সামাদ একাডেমীর নিজস্ব জায়গায় গড়ে উঠা ২৬টি দোকান ঘর ভেঙে ঘুরিয়ে দিল উপজেলা প্রশাসন। বিগত ৩৫ বছর (৩ যুগ) ধরে স্থাপিত দোকানগুলো মঙ্গলবার (১৯নভেম্বর) নান্দাইল উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফয়েজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশের সহায়তায় বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ কোটি টাকার জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
জানাগেছে, উক্ত দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে অসাধু চক্র নামমাত্র ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে ৫৪ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকায় ঠকিয়ে আসছিল অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। এক পর্যায়ে গত কয়েকদিন পূর্বে এ বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে উক্ত ২৬টি দোকান ভেঙে দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে উদ্ধারকৃত জায়গা বুঝিয়ে দেন।
জানাগেছে, বাকচান্দা আব্দুস সামাদ একাডেমি (মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ৮ একর জমি নিয়ে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। উপজেলার সর্ব দক্ষিণে সিংরইল ইউপি’র বাকচান্দা বাজারের উত্তর পাশে নিজস্ব বিশাল মাঠের উত্তর পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। বাজারের পশ্চিম পাশে প্রধান সড়কের দুই পাশে বিদ্যালয়ের জায়গায় ১৯৮৮-১৯৮৯ সালে স্থানীয়রা অনুমতি নিয়ে ২৬ টি দোকান ঘর নির্মাণ করে। সর্বোচ্চ ৮১০ ও সর্বনিন্ম ১৮৯ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট পাকা মেঝ টিনের বেড়ার এসব দোকানে কেউ কেউ নিজেরা ব্যবসা করছেন। কেউ কেউ আবার ৫ বছর মেয়াদের জন্য মোটা অংকের সিকিউরিটি মানি (নিরাপত্তা বন্ধক)নিয়ে অন্যকে দেড় থেকে ২ হাজার টাকায় মাসিক ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু সিকিউরিটি মানি দখলদাররাই নিয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে প্রতিটি দোকান দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে মাসিক ভাড়া আদায় করলেও ঘর মালিক বিদ্যালয়কে প্রতিটি দোকানের মাসিক ভাড়া দিচ্ছেন ৫৪ থেকে ১০৮ টাকা। অবশেষে বাকচান্দা আব্দুস সামাদ একাডেমির সভাপতি নান্দাইল উপজেলা নিবার্হী অফিসার অরুণ কৃষ্ণ পাল নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে এসব দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়।
নান্দাইল উপজেলা সহকারি কমিশনার( ভূমি) ফয়জুর রহমান জানান, দীর্ঘ তিন যুগ ধরে বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে এক শ্রেণির লোকজন ব্যবসা করে আসলেও বিদ্যালয়কে সামান্য টাকা ভাড়া দিয়ে আসছিল। তাদের সবাইকে উচ্ছেদের মাধ্যমে ৪ কোটি টাকার জমি উদ্ধার করা হয়েছে।