
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলা শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতা ইয়াছিন আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নোয়াখালী-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর অনুসারীরা। এনিয়ে জেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
গতকাল শনিবার (১৮ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একরামুল করিম চৌধুরীর জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। এসময় তাঁর অনুসারী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহানের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের সামনে একরামুল করিম চৌধুরীর পক্ষে কিছু সংখ্যক লোক নিয়ে শোডাউন করা হয়। এতে অংশ নিয়ে একরামের পক্ষে স্লোগান দেয় সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হেফাজত নেতা ইয়াছিন আরাফাত।
সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় তাঁর পক্ষে হেফাজত নেতা ইয়াছিন আরাফাতের অংশ নেওয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক জুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের বর্তমান একজন সংসদ সদস্য হয়েও কিভাবে একরামুল করিম চৌধুরী জাতীয় নেতা ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হেফাজত নেতাকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন? যে নাকি এখনো আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী কর্মকান্ডে সক্রিয়।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস জাহের বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় দলের বিরুদ্ধের লোকজন নিয়ে শোডাউন করা খুবই দুঃখজনক। ছবি-ভিডিও ভাইলাল হওয়া ইয়াছিন আরাফাত ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে সে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে হেফাজতের সমাবেশে জেলা শহরে প্রকাশ্যে আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের সাহেবের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। সে আমাদের নেতার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করছে। যার ভিডিও এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আছে। দলের বিরুদ্ধের লোক হলেও নিজ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের এসব লোকদের অর্থ-বৃত্তের মালিক করেছেন নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। তাই এখনো তাদেরকে নিয়েই ঘুরেন উনি। তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীর সম্পর্ক নেই।
এমন অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের জন্য নিজ ফেসবুক এ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান নাছের। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের নেতাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন, প্রকাশ্যে দলের বিরোধীতা করেন, তাকে নিয়ে দলের মনোনয়ন সংগ্রহ সত্যিই দুঃখজনক।
বিএসএল শামিম, নাজিম উদ্দিন, শাহাদাত খান’সহ বিপুল সংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধাচারণ করা সেই হেফাজত নেতা ইয়াছিন আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একরামুল করিম চৌধুরী এমপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোডাউন। আমরা মুজিব আদর্শের সৈনিকরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। একরামুল করিম চৌধুরী নিজেও ওবায়দুল কাদের’সহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধাচারণ করেছেন। দল তাঁর কাছ থেকে কি আশা করতে পারে?
নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি দাবি করে নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলনা ইয়াছিন আরাফাত বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি, আমার এলাকার এমপি হিসেবে একরামুল করিম চৌধুরীর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য গিয়েছি। এতে দোষের কিছু দেখছি না।
এব্যাপরে একরামুল করিম চৌধুরী এমপির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে সংযোগ না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
শুধু ইয়াছিন নয়, একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে এরকম বহু জামায়াত-বিএনপির লোক আছে দাবি করে এব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম।