
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অনুমোদনহীন মশার কয়েল কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে মানহীন কয়েল। এসব কারখানায় মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর কীটনাশক দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মশার কয়েল। বেশি মাত্রায় কীটনাশক দিয়ে কয়েল উৎপাদন করায় ক্ষতি হচ্ছে মানুষের জীবন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়নের হাঁসাড়া গ্রামের এডভোকেট হাউসিং প্রকল্পের অপর সাইডে জানাবুল ইসলামের বাড়িতে নির্মিত এই মশার কয়েল কারখানা।
কারখানায় চায়নাসহ দেশে বিদেশি তৈরি নামি দামি কয়েল কোম্পানির লেভেল নকল করে বাজারে বিক্রি করছেন তারা। নিম্নমানের রাসায়নিক কীটনাশক দিয়ে প্রতিদিন কয়েল উৎপাদন করে বাজারজাত করা হচ্ছে। কারখানার মালিক তাদের ব্র্যান্ড বাজারজাত না করে দেশের অন্যান্য কয়েল ব্যবসায়ীদের ব্র্যান্ডের কয়েল উৎপাদন করে সরবরাহ করেন তারা। কারখানায় রয়েছে শিশু শ্রমের কার্যক্রম। শিশুদের হাতে নেই কোন হাতের গ্লাস মুখে নেই কোন ম্যাক্স এ অবস্থায় তারা কয়েল তৈরি করছেন।
এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা। সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানায়, কেউ মশার কয়েল কারখানা করতে হলে একাধিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। তারমধ্যে ঢাকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্লান্ট প্রটেকশন শাখা থেকে পিএসপি অনুমোদন অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ অনুমোদনে কয়েলে কত মাত্রায় কীটনাশক দেয়া হবে তাহা উল্লেখ থাকে। তারপর ফায়ার লাইসেন্স, ইউনিয়ন পরিষদের অনাপত্তি প্রত্যয়নপত্র, পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন, বিএসটিআই অনুমোদন, বাজারজাত লাইসেন্স, ভ্যাট, আয়কর, ট্রেড লাইসেন্স, ট্রেড মার্ক, এসকল সবকিছুরই অনুমোদন নিতে হয়।
কয়েল ফ্যাক্টরির মালিক বুলবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলেন তিনি বলেন, আমার মোটামুটি সব লাইসেন্সই রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে নাকি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদ উত্তর দিতে পারেনি। জনতার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বে আপনি পানামা ব্যবহার করতেছেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবেদন করেছি অনুমতি এখনও পাইনি। এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মহিন উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।