দূর্নীতি,অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে লালমনিরহাট কালিগঞ্জের উত্তরণ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো.খালেদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষক,কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দূর্নীতি,অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তরণ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খালেদ হোসেনের কলেজটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যক্ষ খালেদ হোসেন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই একক ক্ষমতাবলে স্বেচ্ছাচারিতা,অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছে এমন অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
ছাত্র আন্দোলনে অভ্যুত্থানের পর গত ১ সেপ্টেম্বর অবৈধভাবে ২০২২/২৩ শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তি পাওয়া ৩২ জন ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে উপবৃত্তি বন্ধের ভয় দেখিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থী থেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে উত্তরণ ডিগ্রি কলেজের বৈষ্যম্যর শিকার শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
পরবর্তীতে অধ্যক্ষ খালেদ হোসেন উপবৃত্তির বিষয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি শিকার করে সাময়িক ছুটির দরখাস্ত করেন।
উত্তরণ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহির ইমাম বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে আমলে নিয়ে ছুটির দরখাস্ত মঞ্জুর করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আবু বকর সিদ্দীক কে উত্তরণ ডিগ্রি কলেজের দ্বায়িত্ব অর্পন করেন।
উত্তরণ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে শিক্ষক-কর্মচারীগন দীর্ঘদিন থেকে নির্যাতিত হওয়ার কারনে গত ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর অধ্যক্ষ খালেদ হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে অভিযোগ করেন শিক্ষক-কর্মচারীগন।
মিনিষ্ট্রি অডিটের সময় শিক্ষক-কর্মচারীদের নিকট থেকে জোরপূর্বক টাকা গ্রহণ,বিএম শাখার শিক্ষকদের এম.পি.ও এর সময় জন প্রতি এক থেকে দুই লক্ষ (১০০০০০-২০০০০০) টাকা এবং স্নাতক পর্যায়ে প্রায় ৪০( চল্লিশ) জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রতি জনের কাছে ৫-৭ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রায় ৩ (তিন) কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শিক্ষক-কর্মচারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ উপজেলা আইসিটি অফিসার মোস্তফা চৌধুরীকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের অফিস নোটিস জারি করে প্রাশাসন।
ডিআই/এসকে