ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
যৌথবাহিনীর অভিযানে সাতদিনে গ্রেফতার ৩৪১
এসো আমরা ঈদের আনন্দের সাথে নিজেরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করি-ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান সালেহী
কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় গ্রেফতার ৭
নওগাঁয় ধানখেতে গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মুলহোতা গ্রেপ্তার
নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি কন্যা পর্যটন লেকে ঈদে ১৬ বছরের রেকর্ড পর্যটকের ঢল
বাঁশখালীতে টানা ৪১ দিন জামাতে নামাজ আদায় করা ১৭ শিশু-কিশোর সাইকেল উপহার
আত্রাইয়ে ঈদের চতুর্থ দিনেও সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গ্রেফতার
কলমাকান্দায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার পলাতক অলি আহমেদ
নেত্রকোণা সরকারী কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
ভারতীয় মিডিয়া গুজবে চ্যাম্পিয়ন:স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জিয়ার শ্রদ্ধা স্মারক সরিয়ে ফেলার অপকর্মে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন:জাসাস
কালিগঞ্জে প্রত্যয় গ্রুপের ১৩ তম বর্ষপূর্তি ও ঈদ পুনমিলনী 
পরকীয়া জেরে যুবকের আত্মহত্যা
আমতলীতে তরমুজ পরিবহনে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত- ৬

পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার: প্রক্টরসহ ৯ পদে সন্তোষ কুমার

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন◌্ন অনিয়ম ও শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চেয়ে ১২ অক্টোবর পবিপ্রবি ভিসির কাছে স্মারকলিপি দেয় শিক্ষক সমিতি। সমিতির বেঁধে দেওয়া সময় পার হলেও কোন সমাধান করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বরং শেষ সময়ে এসে কিছু ঘটনায় তদন্ত
কমিটি গঠন করার খবর পাওয়া গেছে।শিক্ষক সমিতি ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, একই ব্যক্তি প্রফেসর সন্তোষ কুমার বসু পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের পাশাপাশি প্রশাসন ও সংগঠনের ৯টি পদে থাকায় ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারতেছেন না।

তাঁর ইন্ধনে কিছু লোক শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও অনিয়ম করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৪ মে সন্ধ্যায় কৃষি অনুষদের সামনে
বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন মণ্ডলকে লাঞ্ছিত করেন র্কমর্কতা মো. আতাউর রহমান ও মাস্টাররোল র্কমচারী মো. শামসুল হক রাসেল। এ ঘটনায় অভিযোগ দিয়েও বিচার পাননি ভুক্তভোগী। অভিযুক্ত দুজন রেজিস্ট্রারের বন্ধু। আনোয়ারুলের দাবি, রেজিস্ট্রারের ইন্ধনে তাঁকে লাঞ্ছিত করেছেন ওই দুজন। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করা হলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে তা তুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সম্প্রতি তদন্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাসা বরাদ্দেও স্বজনপ্রীতি ও নিয়মবর্হিভূত আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে।বাসা পেতে হয়রানির শিকার প্রফেসর কানিজ রোখসানা সুমি জানান,আমাদের নামে নোটিশ দিয়েও বি-টাইপের বাসাটি দেননি।
স্বপন নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তাঁর রেজিস্ট্রার সর্ম্পক রাখতে ওই নেতার বোনকে ১০ জন র্কমর্কতা গিয়ে জোরর্পূবক বাসায় উঠিয়ে দেন। অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো ১১ মাস হয়রানির শিকার হয়েছি।’ এ ঘটনায় তদন্ত
কমিটি হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়াও ১০ মে ফিজিওলজি ও র্ফামাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে র্কোস টিচারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মিল্টন তালুকদার রেজিস্ট্রারের বন্ধু। মোস্তাফিজুর বলেন, ‘ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষকের ইন্ধনে সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টে ফেল করা শির্ক্ষাথীদের
দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মানহানি করেছে। অথচ ওই র্কোসেই আমার পরির্বতে নতুন টিচার প্রফেসর আহসানুর রেজাকে র্কোস রিপিট লিখিত পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ওই পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্রের হুবহু নকলসহ এক শির্ক্ষাথী ধরা পড়ে, কিন্তু প্রশাসন ওই ঘটনায় গত দুই মাসেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
ওই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে খোঁজ নিলে তদন্ত কমিটি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অপর এক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এক শির্ক্ষাথীকে পাস করিয়ে না দেওয়ায় ১৪ আগস্ট দুপুরে কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর এস এম হেমায়েত জাহানকে পরীক্ষার দায়িত্বে পালনরত অবস্থায় কক্ষে তালা মেরে
অবরুদ্ধ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের র্কমচারী ও শিক্ষকরা এসে তাঁকে উদ্ধার করলেও খোঁজ নেননি সন্তোষ কুমার বসু। এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও আজ র্পযন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রফেসর হেমায়েত জাহান জানান, ‘একই ব্যক্তি রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর হলে কখনো সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।’ এদিকে ক্যাম্পাসে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়লেও নীরব র্দশকের ভূমিকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর মো. মমিন
উদ্দিন জানান, ‘সন্ধ্যা নামতেই ক্যাম্পাসে বহিরাগত মাদকসেবীদের আসর বসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে। এক ব্যক্তি একাধিক পদে থাকলে যা হয়।

যেসব দায়িত্বে সন্তোষ কুমার রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, রিজেন্ট র্বোডের সদস্য, ক্যাফেটেরিয়া মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক, র্কমচারী সিলেকশন র্বোডের সদস্য, শৃঙ্খলা র্বোডের সদস্যসচিব, উত্তরণ সমিতির সভাপতি, বাঁধনের প্রধান উপদেষ্টা ও আলোক তরির উপদেষ্টা প্রফেসর সন্তোষ কুমার বসু। শিক্ষক সমিতির বক্তব্য
শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর জেহাদ পারভেজ বলেন, ‘রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর একই ব্যক্তি দুটি কাজ করতে পারেন না। তাঁর ইন্ধনে শিক্ষকদের সঙ্গে একের পর এক হয়রানিমূলক ঘটনা ঘটে। বিষয়গুলো ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়কে জানাব।’ তিনি আরও জানান,‘আমাদের আংশিক কিছু দাবির সমাধান করার জন্য উদ্যোগ নিলেও সর্ম্পূণ দাবি এখনো মেনে নেয়নি। তাই আগামী শনিবার আমরা সাধারণ সভা ডেকেছি এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরর্বতী র্কমসূচি ঘোষণা করা হবে।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান মিয়া জানান, ‘প্রশাসনের গুরুত্বর্পূণ পদগুলোয় অযোগ্য লোকজন বসিয়ে রাখা হয়েছে। স্মারকলিপি দেওয়ার পর দাবিগুলো মেনে নিতে ১৫ নভেম্বর র্পযন্ত সময় নেন ভাইস চ্যান্সেলর। সময় শেষ হয়েছে। শিগ্রই লাগাতার র্কমসূচি ঘোষণা করা হবে।’রেজিস্ট্রারের বক্তব্য
নিয়ম ভেঙে বাসা বরাদ্দ এবং শিক্ষককে লাঞ্ছনার বিষয়ে রেজিস্ট্রার সন্তোষ নকুমার বলেন,সেকশন অফিসার বাসা
যথাযথভাবেই পেয়েছেন। এ ছাড়া ড. আনোয়ার হোসেন মণ্ডলের ঘটনায় তাঁর কোনো অভিযোগ ছিল না। বিচার চাননি বলেই পাননি।’ এক শিক্ষককে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি, তাহলে কীভাবে ব্যবস্থা নেব।’ মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সব সময়ই শক্ত অবস্থান জানিয়েছে সন্তোষ কুমার জানান, ‘রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের দুটি
দায়িত্ব একসঙ্গে চালাতে কষ্ট হয়, কারণ দুটি অতি গুরুত্বর্পূণ পদ।’ এ বিষয়ে কথা বলতে ভিসি প্রফেসর স্বদেশ চন্দ্র সামন্তকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

শেয়ার করুনঃ