
নড়াইল সদর উপজেলার চরবিলা গ্রামে ৬ শতক জমির লোভে মাহবুব মোল্যার বিরুদ্ধে হ্নদয় ফকির নামে তিন বছরের এক শিশুকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। হ্নদয় চরবিলা গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক সোহেল ফকিরের ছেলে। আহত শিশুটিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোহেল ফকির জানান, তিনি ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় একটি ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। বাড়িতে তার স্ত্রী শিশু পুত্রকে নিয়ে বসবাস করেন। বসতভিটার ৬ শতক জমি জোরপূর্বক ভোগদখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন মাহবুব মোল্যা (৫৫)।
মাহবুব মোল্যার অত্যাচারে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা সবসময় আতংকিত থাকেন। সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশু হ্নদয়। তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমরা কান্নাকাটি করতে থাকি। এক পর্যায়ে ল্যাট্রিনের পাশে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে আত্মীয় আলেয়া এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন।এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর চাচাতো মামা মাহবুব জড়িত বলে তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন। এ ঘটনার দেড়মাস আগে তাঁর ৬ বছরের শিশুপুত্র রোহানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পানিতে ফেলে রাখা হয়। সে সময় বিষয়টিকে তাঁরা মামা মাহবুবের পরিকল্পনার বিষয়টি আঁচ করতে পারেননি বলে জানান তিনি।সোহেলের মা ভানুমতি জানান, চাচাতো ভাই মাহবুবের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তাদের বিরোধ চলে আসছে। আমার জমি মাহবুবের নামে লিখে দেয়ার জন্য আমাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। জমি লিখে না দেয়ায় গত ২৩ অক্টোবর মাহবুব আমাকে শারিরীকভাবে মারপিট করে। ঘটনা উল্লেখ করে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। এ ব্যাপারে মাহবুব মোল্যা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন। আমাকে হেয় করতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে।