
আজ ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর (বশেমুরবিপ্রবিপি)-এ ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত স্নাতক (সম্মান) প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ সকালে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের শহীদ ওমর ফারুক অডিটোরিয়ামে এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রক্টর ড. মোঃ মুছা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আকতার হোসেন। অতিথিদের আসন গ্রহণের পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন সাইকোলজি বিভাগের আজমাইন ফায়েক এবং গীতা পাঠ করেন গণিত বিভাগের সুবর্ণা রাজবংশী।
সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক রিয়া রায়হান এবং গণিত বিভাগের প্রভাষক রুবিনা বেগম তানজিলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের পরিচয়পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর জুলাই ও আগস্ট মাসে নিহত ছাত্র-জনতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ এবং তাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণের পর অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. মোঃ মুছা খান ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
ড. মোঃ মুছা খান বলেন, আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও আপনাদের মতো নবীন। এ কারণে অনেকের মধ্যে অনেক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করতে পারে। আমি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন-পুরাতন বলে কিছু নেই। এখানে সকল সুযোগ-সুবিধা আপনারা পাবেন। আপনাদের সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতার জন্য আমরা প্রস্তুত। আমাদের কাছ থেকে সেই সহযোগিতা নিতে আপনাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সোহাগ বর্মন বলেন, সিএসই একটি বহুমুখী বিষয়। এটা নিয়মিত পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনের মধ্যে টিকে থাকতে হলে, খাপ খাওয়াতে হলে সৃজনশীলতা বাড়াতে হবে। এজন্য টেকনিক্যাল ও প্রোগ্রামিং দক্ষতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধন দিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সন্তানের মতো। তবে আমরা সন্তানের মতো নয়, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তান হিসেবে দেখবো। সেই আশ্বাস আমি আপনাদের দিচ্ছি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার এবং যে কোনো প্রয়োজনে নির্দ্বিধায় শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. অলক কুমার সাহা তাঁর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্বাগত জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আগাতে হবে। সেভাবে কাজ করলে জীবনে সাফল্য আসবেই।
এ ছাড়া তিনি জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তা মোকাবিল করার জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, কম্পিউটার ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আকতার হোসেন বলেন, শিক্ষা জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের জন্য। আপনাদের আগমনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ পেয়েছে। আপনাদের পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আপনারা দেশে গঠনে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আপনাদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দেশ ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সফলতা সহজে আসে না। এজন্য দরকার সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়। জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। লক্ষ্যে অটুট থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিশ্রম করলে সাফল্য ধরা দেবেই।
এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং রিসার্স, প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি হস্তান্তর কেন্দ্রের পরিচালক ড. এম. এম. আয়ুব হুসাইন, সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক কে. এম. আসলাম উদ্দিন, সাইকোলজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার নিপা, প্রভাষক ও কাউন্সিলর নাজমা আক্তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের তাহমিদুর রহমান নিহাল, গণিত বিভাগের নাওমি নাওয়ার, সাইকোলজি বিভাগের শেখ ফরিদ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সাব্বির মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাদের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।