পাঁচবিবিতে বাগজানা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দাতা সদস্যের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে আজ বুধবার বেলা ১২ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সমস্যা সমাধানে বিদ্যালয় পরিদর্শনে ছুটে এলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন। তিনি প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে দুপক্ষকে নিয়েই বৈঠকে বসেন এবং তাদের কথা শোনেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন পাঁচবিবি থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছাত্র-ছাত্রীদের মানববন্ধন চলছিল। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মোজাহিদ ইসলাম, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী বিথী রানী সহ বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীবৃন্দ। শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ২১ অক্টোবর দুপুরে পশ্চিম কুটাহারা গ্রামের ওয়াহেদুল্লাহ্ খান আদনান,নুরনবী ও ইমজামামুল হকসহ ১৫-২০ জনের একদল বহিরাগত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুম ও অফিস কক্ষে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ হামলায় স্কুলের শিক্ষক, কর্মচারীদের এলোপাথারীভাবে মারপিট করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও প্রয়োজনীয় ফাইল তছনছ করে। এসময় ছাত্র-ছাত্রীরা বাঁধা দিলে তাদেরকেও এলোপাথারীভাবে মারপিট করে। তাদের মারপিটে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক, সহকারী শিক্ষক ইছাহাক আলী, মুমিনুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর তানজিলা সুলতানা তন্নী, ছাত্র শাকিব (১৬), হাদী, খালিদ, শাহিদ, আরাফাত, মাহবুব হাসান সহ আরো কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এ সংবাদ পেয়ে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সাজ্জাদ হোসেন সাজু পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য এগিয়ে আসলে তাকেও মারপিট করে তার বাম হাত ভেঙ্গে দেয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। আহতদের মধ্যে ছাত্র আরাফাত ও দাতা সদস্য সাবেক ইউপি মেম্বার সাজুর অবস্থা আশংখ্যাজনক। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক বাদী হয়ে ঘটনার দিন পাঁচবিবি থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। এদিকে জেলা শিক্ষা অফিসারের পরিদর্শনকালীন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি চালিয়ে গেছে।