
ডেস্ক রিপোর্ট : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) গণজমায়েত কর্মসূচি করবে। এদিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে,রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ, ঢাবি ও জাবিতে গতকাল সোমবার (২১ অক্টোবর) বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। রাজশাহী ও কিশোরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এই মিছিল বের করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণ–অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের’ ব্যানারে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যানারে মশালমিছিল করা হয়
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অতর্কিত হামলাসহ দেশব্যাপী চালানো তাণ্ডবের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি মশালমিছিল বের করা হয়। ‘গণ–অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের’ ব্যানারে বের হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে বক্তব্য দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অপকর্ম ও সন্ত্রাসী মূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সব অঙ্গ সংগঠনকে জুলাই-বিপ্লবে হামলার দায়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, রবিবার রাতে গণভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীদের ওপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করা হয়েছে। আজ গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার কোনো প্রামাণিক দলিল নেই। একই সাথে সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আক্রমণের মাধ্যমে জানাতে চাচ্ছে তারা এখনো দমে যায়নি। এর সাথে রাষ্ট্রপতির এ ধরনের বক্তব্য আমাদের কাছে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। তারা যত ধরনের সন্দেহ সৃষ্টি করুক না কেন, রাষ্ট্রপতি যতই শেখ হাসিনার কথা বলুক না কেন, বাংলাদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে কখনোই গ্রহণ করবে না। এটা আবার তাদেরকে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই।
সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মশালমিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবি জানান।
এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে’, ‘এই ক্যাম্পাসে হবে না, ছাত্রলীগের ঠিকানা’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘এক হয়েছে সারা দেশ, ছাত্রলীগের দিন শেষ’, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ, করতে হবে’, ‘এক দুই তিন চার, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ছাড়’, ‘স্বৈরাচারের দোসরেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘মুজিববাদ নিপাত যাক, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা বলেছেন, যারা স্বৈরাচারের দোসর এবং স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনার জন্য নানা চেষ্টা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আজকের এই মশাল মিছিল। জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল সেসব ছাত্রলীগ-যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যেগুলো রয়েছে তারা যেনো কোনোভাবেই বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে না পারে সেই দাবি তারা জানান।
এদিকে, রাজশাহীতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে সোমবার বিকাল ৪টায় সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সড়ক ঘুরে সাহেববাজার বড় মসজিদের সামনে এসে সমাবেশ করে। সেখানে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার ও রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী আবদুর রহিম।
এছাড়া কিশোরগঞ্জ শহরের পুরান থানা থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মশালমিছিল বের করা হয়, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জের সমন্বয়ক অভি চৌধুরী ও ইকরাম হোসেন।