
খামার বাড়ি কৃষি কাজের জন্য লিজ নিয়ে কোন ধরনের আইনি অনুমোদন ছাড়াই লোকচক্ষুর আড়ালে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে নকল পন্যের অবৈধ কারখানা। শিশু শ্রম ব্যবহার করে ওই কারখানায় উৎপাদিত ১৫ থেকে ১৬টা পণ্য বাজারজাতও করা হচ্ছে দিব্যি।
নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামের খলিল মিয়ার দরজা সংলগ্ন এলাকার আল আমিন মির্জার খামার বাড়িতে ভারটেক্স কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড,নোয়াখালী,বাংলাদেশ নামক এই নকল পন্যের কারখানাটি গড়ে তুলেছেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা মো.লোকমান হোসেন।
নকল পন্যের এই কারখানার কোন বৈধ কাগজপত্র ও ক্যামিস্ট না থাকায় অভিযানের দুইদিন পর রোববার সকালে ভারটেক্স কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের জিএম লোকমান হোসেনকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো.কাউছার মিয়া।
ভারটেক্স কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের বৈধ কোন কাগজপত্র ও ক্যামিস্ট না থাকার কথা স্বীকার করে বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত এবং ক্যামিস্ট নিয়োগের আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করে লিখিত জবানবন্দী
প্রদান করেন জিএম লোকমান হোসেন।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো.কাউছার মিয়া,ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সমন্বয়ক সুমাইয়া আক্তার ও আনছার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো.কাউছার মিয়া বলেন,জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামের আল আমিন মির্জার খামার বাড়িতে অবৈধ কারখানায় নকল পন্য উৎপাদন হচ্ছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন সংবাদ পেয়ে শুক্রবার সকালে ওই কারখানায় ভোক্তা অধিকারের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় কারখানার ভিতরে ডিটারজেন্ট পাউডার,টয়লেট ক্লিনার, ভিক্সল টাইলস ক্লিনার,টাইলস ফুটিং,শক্তিশালী জীবাণু নাশক ফিনাইল,ড্যাম্প বা লোনা ধ্বংসকারী কনভার্ট ড্যাম্প ক্যাশসহ বিপুল সংখ্যক উৎপাদিত পন্য,পন্য উৎপাদনের সরঞ্জাম ও ক্যামিকেল পাওয়া যায়। সরেজমিনে কারখানায় কোন ক্যামিস্ট ও উল্লেখিত পন্য উৎপাদনের দক্ষ কোন শ্রমিক পাওয়া যায়নি। শুধু মাত্র কয়েকজন শিশুকে দিয়ে এসব পন্য উৎপাদন করানো হচ্ছে। মালিকের অনুপস্থিতিতে শ্রমিকরা কারখানার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে আজ রোববার (২০ অক্টোবর) সকালে কারখানার জিএম মো. লোকমান হোসেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালী কার্যালয়ে আসেন এবং তিনি তার মালিকানাধীন ভারটেক্স কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের বৈধ কোন কাগজপত্র (ট্রেড লাইসেন্স ব্যতিত) ও প্রতিষ্ঠানের ক্যামিস্ট নিয়োগের তথ্য দেখাতে পারেননি। তাই তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে নগদ আদায় করা হয় এবং বিএসটিআই লাইসেন্সসহ যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত এবং ক্যামিস্ট নিয়োগের আগ পর্যন্ত অবৈধ কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চত্র ছায়ায় চলা এই নকল পন্যের অবৈধ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডিআই/এসকে