
মোঃ নূরবক্ত মিঞা, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। তীব্র ভাঙনের ফলে চিলমারী ইউনিয়নে গত ১সপ্তাহে গৃহ হারা হয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার,ভেঙে গেছে শত শত একর আবাদী জমি। হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার নির্মানাধীন মুজিব কিল্লা।
জানা গেছে,উপজেলার চরাঞ্চল চিলমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।এতে গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ইউনিয়নটিরশাখাহাতি,কড়াইবরিশালের শতাধিক বাড়ী-ঘর নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়াও শত শত একর আবাদী জমি নদীতে ভেঙে গেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষেপ্রায় সাত কোটি টাকার নির্মাণাধীন মুজিব কিল্লা প্রকল্পটি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
২০১৯ সালে চিলমারী ইউনিয়নেরকরাইবরিশাল এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মুজিব কিল্লা প্রকল্পটিতে একটি প্রাণিসম্পদ রাখার শেড ও একটি ৩ তলা বিশিষ্ট শেল্টার ভবন নির্মাণ হবে। সি গ্রেডের এ প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। প্রকল্প নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমজেএস এমএনপি জেভি।এদিকে শুরু থেকেই প্রকল্পটিকে ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়েনি। মুজিব কিল্লা নির্মাণে উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন না করা, ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাট এমনকি ভাঙনে বিলীনের শংঙ্কার থাকার পরও সম্প্রতি মুজিব কেল্লাটির ছাদ ঢালাই করা হয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি এলাকার মো.দুলু মিয়া, মোতাহার আলী,মোকছেদ আলী বলেন,নদীর ভাঙনে হামার বাড়ি ঘর জমি নদীত চলি গেইছে এখন অন্য জনের জায়গায় ঘর বানে আছি। সরকারের কাছে দাবি করছি হামার ইউনিয়নের ভাঙন রােধ করি দেয়। করাইবরিশাল এলাকার আমিনুল ইসলাম বলেন মুজিব কেল্লাটি করাইবরিশাল ঘাট ভাঙন এলাকা থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ শত মিটার হবে।
চিলমারী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়াডের ইউপি সদস্য মো.রফিকুল ইসলাম বলেন পানি বাড়ার কারণে গত কয়েক দিনের ভাঙনে শাখাহাতি এলাকার প্রায় ৪০ টি পরিবারের বাড়ি ঘরসহ শত শত ঘর বাড়ি মিলিন হয়েছে। যে ভাবে নদী ভাঙছে এ ভাঙন অব্যাহত থাকলে চিলমারী ইউনিয়নটি আর থাকবে না
একই ইউনিয়নের ১ নং ওয়াডের ইউপি সদস্য মো. জাকিউল হক বলেন আসলে আমরা ভাবতে পারিনাই চিলমারী ইউনিয়নটি ভাঙনের মুখে পরবে। আগে মুজিব কেল্লাটি শাখাহাতিতে করার কথা ছিলো পরে করাইবরিশাল এলাকার মানুষের অনুরোধে মুজিব কেল্লাটি স্থানান্তর করা হয়। এ চরাঞ্চলে মুজিব কেল্লাটি দেয়া ঠিক হয়নি। আগে নদী ভাঙন রোধ করা দরকার ছিল।তার পর প্রকল্পটি দেয়ার দরকার ছিলো।চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গওছল হক মন্ডল বলেন, ‘মুজিব কিল্লাটি নির্মাণ করার জন্য জায়গা নির্বাচনে ভুল ছিল। কারণ নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে এত বড় একটি প্রকল্পের কাজ করবে, সেটি সঠিকভাবে বিচার বিবেচনা করার দরকার ছিল। তবে এটি নির্মাণ হলে এই এলাকার মানুষের অনেক উপকার হতো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ( পি আইও) মো: মোশারফ হোসেন জানান ভাঙান এলাকা থেকে এক কিলোমিটার দুরে মুজিব কিল্লাটি ভাঙনের ঝুঁকিতে নেই।চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, মুজিব কেল্লাটি আগে শাখাহাতিতে করার কথা ছিলো নদী কাছে হওয়ায় প্রকল্পটি করাইবরিশাল নেয়া হয়।এ বিষয়ে মুজিব কিল্লা নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমজেএস এমএনপি জেভি’র স্বত্বাধিকারী মো: সজিবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো: মনোয়ার হোসেন (যুগ্মসচিব) জানান, আমরা আপাতত ওই প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছি।