
জহির সিকদার,আশুগঞ্জ ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতাঃ দেবী দুর্গা আজ কৈলাশে ফিরে যাবেন। তাই ভক্তদের মনে দুঃখ। তবে তাদের
দুঃখ লাঘব করতে আগামী বছর আবার আসবেন দুর্গা। দেবীর বিদায়ের কষ্ট ভুলে থাকতে এবং হাসিমুখে বিদায় জানানঁর জন্যে ভক্তরা মত্ত রয়েছেন সিদুর খেলায়। রোববার আশুগঞ্জ শ্রকল্যান কেন্দ্রের পুজা মন্ডপে ভক্তরা মেতে উঠেন সিঁদুর খেলায়। একই দিনে তিথি থাকায় দশমীর পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার সকালে। দুর্গাপুজায় সবশেষ রীতিটি হচ্ছে “দেবী বরন”। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের মাধ্যমে। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর,পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিদুর ছোয়ানোর পর একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন।তারা এই সিঁদুর মাখিয়ে দুর্গা মাকে বিদায় জানান। দেবীকে নিয়ে যাওয়ার আগে সিথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙ্গুলে লেহে থাকা বাকি সিঁদুরটুকু তারা একে-অপরের মুখে মাখেন। এই সিঁদুর মাখার রিতি অনেক সময় দশমী ঘরে পালন করা হলেও অনেকেই আবার নিজেদের ঘরে খেলে থাকেন। মুখ রঙ্হিন করে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই এই সিঁদুর খেলা। তাই মাকে বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে -অপরকে সিঁদুর লাগিয়ে মিষ্টিমুখ করেন,না-গান করেন, যেন সারাটা বছর এমন আনন্দেই কাটে। স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন নারীরা নিজ কপালে সিঁদুর লাগান এবং সেই সিঁদুরের কিছু অংশ দিয়ে দেবীর চরণ স্পর্শ করে থাকেন। তারপর সবাই মিলে একে অপরকে সিঁদুর মাখেন। দুর্গা আবার আগামী বছর সঙ্গে করে শাঁখা,সিঁদুর নিয়ে আসবেন এবং সেই শাঁখা সিঁদুর ধারন করেই স্বামীর মঙ্গল হবে,এই বিশ্বাসেই ভক্তরা সিঁদুর নিয়ে দশমী উৎযাপন করেন। এই উৎসবের নামই সিঁদুর খেলা। এই সিঁদুর খেলা বিবাহিত নারীর জন্য সীমাবদ্ব থাকলেও সবাই মন্ডপে ভীড় করেন,নেচে- গেয়ে অংশ নেন।অবিবাহিতরা গালে আর হাতে মাখেন সিঁদুর,।মায়ের চরনে সিঁদুর নিতে আসা সুপ্রিয়া দেবনাথ বলেন,বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায়না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে,তখন ভাল স্বামীএবং সুখের সংসারের কামনায় আমরা আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিথিতে সিঁদুরপড়বো সিঁদুর খেলতে আসা অপর এক নারী পূজা সাহা বলেন,স্বামীর মঙ্গল কামনায় মায়ের কাছে প্রার্থনা করি।তার পায়ে সিঁদুর ছুঁয়ে দিয়ে তার কিছুটাতার কিছুটা সিথিতে লাগালে সংসারে মঙ্গল হয়।মহালয়া থেকে দেবী দুর্গার মর্ত্যালোকে আসার ঘন্টা বাজে।ষষ্ঠিতে তিনি ভক্তদের মাঝে অধিষ্ঠিত হন। আর দশমীতে তিনি কৈলাশ চলে যান। শনিবা বিজয়া দশমীর পুজা শেষ হলেওআজ(সোমবার) হবে প্রতিমা বিসর্জন।দুর্গা মায়ের বিদায়ের দিন। ঘোড়ায় চড়ে দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন।দুপুর তিনটায় শ্রমকল্যান কেন্দ্র থেকে করা হবে শোভাযাত্রা এবং নৌকা যোগে দেবীকে চরসোনারমপুরে নিয়ে গিয়ে মেঘনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এ বছর জেলায় মোট ৫২২ টি পুজা মন্ডপে পুজা উৎযাপন করা হয়েছে।উল্লেখ্য যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় সবহুলো মন্ডপে একই রকম চিত্রের খবর পাওয়া গেছে।