
নড়াইলে একই স্থানে মসজিদ ও মন্দির নির্বিঘ্নেই চলছে নামাজ ও পূজা। নড়াইল পৌর এলাকার মহিষখোলা গ্রামের চিত্রা পাড়ের ছোট্ট একটি মাঠের একপাশে মসজিদ আর একপাশে মন্দির। সময় হলে কেউ যাচ্ছে নামাজে আর কেউ যাচ্ছে পূজা দেখতে। যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করে চলছে এখানকার সবাই। নেই কোনো ধর্মীয় সংঘাত। এখানে রয়েছে ধর্মীয় সম্প্রতির উজ্জ্বল নিদর্শন। প্রায় ৪৫ বছর ধরে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, এক সময়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস মহিষখোলায় ছিল। এই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পাশেই ১৯৭৪ সালে এই জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮৫ সালে পূর্ণ নির্মান কাজ শুরু হয়।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মহিষখোলা সার্বজনীন পূজা মন্দির। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি মাঠে ৩টি স্থপনা রয়েছে। মাঠের পচ্চিম পাশে পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদ নামে একটি মসজিদ রয়েছে। আর উত্তর-পূর্ব পাশে রয়েছে মন্দির আর মাঝ বরাবর রয়েছে শরিফ আব্দুল হাকীম ডায়াবেটিস হাসপাতাল। যশোর থেকে এ মন্দিরে পূজা দেখতে আসা এক দীপংকর রায় বলেন, একই জায়গায় পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দির যে যার ধর্ম পালন করছে এটা দেখতে বেশ ভালোই লাগে। সবাই এভাবে মিলেমিশে থাকায় ভালো। বরাশুলা গ্রামের রিপন মোল্যা বলেন, এখানে আমরা মুসলিম-হিন্দু মিলেমিশে বসবাস করছি। আমাদের এখানে কখনও আমরা ধর্ম নিয়ে বিরোধ করিনা। এ এলাকার সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্যের ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। মহিষখোলা এলাকার নূর-আলম বলেন, এ এলাকায় আমরা সবাই একত্রে বসবাস করি। পূজা এলেই রাস্তা, নদীর পাড়সহ আশপাশ সুন্দর করে আলোকসজ্জা করা হয়। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষেরা এখানে পূজা দেখতে আসেন। মহিষখোলা সার্বজনীন মন্দির কমিটির সভাপতি সুমন দাস বলেন, এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি তারপর ও কখনোই পূজা করতে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা সবাই একত্রে মিলেমিশে দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। মসজিদ কমিটির কাছ থেকে নামাজের সময়সূচী নিয়েছি নামাজের সময় আমাদের কার্যক্রম সীমিত রাখি। নামাজ শেষ হলে আমাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবেই চলে। নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ কুন্ডু বলেন, এ বছর জেলার তিনটি উপজেলায় ৫৭০টি মন্ডপে দূর্গাপূজা হচ্ছে। আশা করছি প্রতি মতো এবারও নড়াইলে শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা শেষ হবে।