
রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি মোড় এলাকায় মাত্র দেড় হাজার টাকা পাওনার জেরে কিশোরকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মিলন (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।
হত্যার শিকার কিশোরের নাম নাজমুল ইসলাম রেদুয়ান (১৩) তারা সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই।
পুলিশ বলছে, নিহত নাজমুলের বাবা আব্দুল কালামের কাছে পাওনা দেড় হাজার টাকা না পাওয়ার জেরে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটায় মিলন।
এর আগে গতকাল বুধবার বরিশালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মিলনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জ থানার খোলামুড়া এলাকা থেকে অপহৃত নাজমুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধায় লোহমোর্ষক হত্যার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের ধানমণ্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান।
তিনি বলেন, হাজারীবাগ থানার ট্যানারি মোড় এলাকা থেকে স্কুল ছাত্র নাজমুল ইসলাম অপহরণের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। পরবর্তীতে অপহরণকারী নিজেই ফোন দিয়ে তার কাছে থাকার তথ্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে জানায় এবং ৬ হাজার টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগী নাজমুলের বাবা ৬ হাজার টাকা পাঠানোর পর এবার অপহরণকারী দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি হাজারীবাগ থানার পুলিশকে জানানো হলে থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণমারী মিলনের অবস্থান বরিশাল শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর মিলন অপহরণের কারণ ও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ঘাতক মিলনের বরাত দিয়ে এসি তারিকুজ্জামান বলেন, মিলন পেশায় একজন শ্রমিক। আর নিহত নাজমুলের বাবা ঠিকাদার। নাজমুল কিছুদিন পূর্বে নাজমুলের বাসায় অবস্থান করে তার বাবা কালামের সঙ্গে কাজ করছিলো। কাজের ১৫০০ টাকা পেতো মিলন। এই টাকা চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে মিলনকে টাকা দিতে পারে নি কালাম। কাজের বিল পেলেই টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজমুলকে বাসার থেকে অপহরণ করে মিলন। এরপর কেরানীগঞ্জ থানার খোলামুড়া এলাকার একটি কাশবনে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর সেখানেই মরদেহ ফেলে দিয়ে বরিশাল চলে যায়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী কাশবন থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্কুল ছাত্র নাজমুল ইসলাম হত্যায় নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মিলনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
ডিআই/এসকে