
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর-ফুলবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুর্গাপুর ঢিবি পুলিশ বক্সে নেই পুলিশ! পুলিশ বক্স সংলগ্ন এলাকায় বেড়েই চলছে ছিনতাই এর ঘটনা। ছিনতাই আতঙ্কে পথচারী, রিক্সা, ভ্যান চালক ও বাসা বাড়ি থেকে সন্ধ্যার পর বের হওয়ার সাহস পাচ্ছে না এলাকার সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা হলেই এই আতঙ্ক বাড়ে।
গত এক সপ্তাহে ওই পুলিশ বক্সের আশপাশে মহাসড়কে মুঠোফোন, টাকা ও আটোর্চাজার সহ ৬ জন ছিনতায়ের কবলে পড়েছে। গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ বক্সে থাকছে না পুলিশ।
গত ৫ অক্টোবর শনিবার ঢাকা থেকে বাবার বাড়ি দূর্গাপুর (দাঁড়ারপাড়) গ্রামে মৃত বাবার চল্লিশা অনুষ্ঠানে জামাইকে নিয়ে রাতে আসছিলেন শেফালী বেগম। পথে দূর্গাপুর পুলিশ বক্সের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। ছিনতাইকারীরা তাঁদের সঙ্গে থাকা মোবাইল, নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।অটোর্চাজারে থাকা যাত্রীদের মারধর করে অটোর্চাজার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরের দিন আবারও ছিনতাইকারীরা যাত্রীরবেশে বিরামপুর শহর থেকে আটোর্চাজার ২’শত’ টাকা ভাড়া করে ফুলবাড়ীর উদ্দেশ্য রওনা দেয়। দূর্গাপুর শালবাগান ঢিবি পুলিশ বক্স এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে পুলিশবক্সের অদূরে নিয়ে গিয়ে র্চাজার চালকের বাবাকে ফোন করে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে চালক উপায় অন্তর না পেয়ে সুকৌশলে অটো চার্জারের তারগুলি ছিড়ে ফেলে। এরপর চালকে মারধর করে ও দুই হাতে ধারালো অস্ত্রদিয়ে জখম করে।
প্রাণ ভয়ে পাকা রাস্তায় চলে আসেন অটোচার্জার চালক। রাস্তায় এসে চলন্ত ট্রাক থামায় ও পরে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারী বেগতিক দেখে ঘটনা স্থল দ্রুত ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। একই এলাকায় প্রতিদিন চুরি ছিনাতইয়ের ঘটনা ঘটায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি ওর্য়াড সদস্য মনিক জানান, বিরামপুর কলাবাগান থেকে চন্ডিপুর এলাকায় ছিনতাই কারীদের হটস্পট। ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা-পয়সাসহ সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে চাকু, চাপাতি কিংবা রাম দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে সব হাতিয়ে নেয়।
দূর্গাপুর গ্রামের মোরসালিন জানান, হঠাৎ করেই এলাকায় ছিনতাই বেড়ে গেছে। কমবেশি প্রতিদিন খবর পাওয়া যাচ্ছে ছিনাতই এর ঘটনা। এলাকা জুড়ে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, উল্লেখ করে এব্যাপারে তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ বক্সটি পরিত্যাক্ত থাকা অবস্থায় সেখানে কোনো পুলিশ ছিল না। পরে সেটি মেরামত করা হয়। মেরামত করার পরে সেখানে সন্ধ্যার পর নিয়মিত দুইজন পুলিশ ডিউটি করতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে এই মহাসড়কের পাশে ঢিবি পুলিশ বক্সে আর পুলিশ দেখা যায় না। আগের মত সেখানে যেন, নিয়মিত পুলিশ থাকেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার এই দাবী।
বিরামপুর থানার নবাগত অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, চুরি, ছিনতাই ঠেকাতে পুলিশ বিভিন্ন কৌশলে কাজ করছে। হঠাৎ করেই ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটায় পুলিশি তৎপড়তা বৃদ্ধি করা হবে। রাতে রাস্তায় পুলিশের টহল জোরদার করা হবে। পুলিশ বক্সে পুলিশের ডিউটি করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থ্যা করা হবে।