নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের চর উরিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন নোয়াখালী এগ্রো সার্ভিস প্রদর্শনী কেন্দ্রে নারিকেল ও সুপারি বীজ সংগ্রহ,বিভিন্ন ফলজ-বনজ ও ওষুধি চারা উৎপাদন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ কেন্দ্রের যাবতীয় কর্মকান্ডে উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন) নুরুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে।
নোয়াখালী এগ্রো সার্ভিস প্রদর্শনী কেন্দ্রের তথ্য মতে- চলতি মৌসুমে বিএডিসি’র উদ্যান উন্নয়ন বিভাগ ও এগ্রো সার্ভিস সেন্টার কার্যক্রমের আওতাধীন খামারগুলোতে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নারিকেল চারা উৎপাদনের জন্য ২৫ হাজার নারিকেল বীজ কৃষক পর্যায় থেকে কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিটি নারিকেল বীজ ৭৪ টাকা দরে কিনতে বলা হয়। এছাড়া এই প্রদর্শনী কেন্দ্রে সুপারির চারাসহ বিভিন্ন ফলজ,বনজ ও ওষুধি গাছের চারা উৎপাদনের জন্য প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং কৃষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
কৃষকদের অভিযোগ,এগ্রো সার্ভিস প্রদর্শনী কেন্দ্রের উপ-পরিচালক নুরুল আলম সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে কৃষকদের কাছ থেকে উন্নতমানের নারিকেল বীজ সংগ্রহ না করে নিজের ইচ্ছামতো স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নারিকেলের আড়ত থেকে প্রতিটি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে নারিকেল বীজ কিনেছেন। যার মান নিম্নমানের। কিন্তু দাম ৭৪ টাকা করেই দেখিয়েছেন তিনি। এভাবে তিনি এবং তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোটা অংকের অর্থ লোপাট করে নিয়েছেন। শুধু চলতি মৌসুমেই নয়,গত ১০ বছর এভাবে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা লুপে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
চর উরিয়া গ্রামের মাহফুজুর রহমান, জাকের হোসেন, জসিম উদ্দিন, তুহিনসহ একাধিক কৃষক জানান, এখানে কৃষকদের কাছ থেকে নারিকেল বীজ সংগ্রহের কথা বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে কৃষকদের কাছ থেকে কোনো নারিকেল বীজ সংগ্রহ করা হয় না। এগ্রো সার্ভিস প্রদর্শনী কেন্দ্রের কর্মকর্তা নুরুল আলম নিজে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষকের ভুয়া তালিকা করে আড়ত থেকে নিম্নমানের নারিকেল সংগ্রহ করেন। ফলে নারিকেলের চারার স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যহত হয়। এছাড়া অন্যান্য চারা উৎপাদনেও তিনি বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন।
কৃষকরা জানান, এই এগ্রো সার্ভিস প্রদর্শনী কেন্দ্রে কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও সেখানে প্রকৃত কৃষকদের প্রশিক্ষণে অর্ন্তভুক্ত না করে কৃষক নয় এমন ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করে প্রশিক্ষণ ভাতা, সার-বীজসহ কৃষকদের যাবতীয় সুবিধা হরণ করা হচ্ছে। নিজ এলাকার বীজতলায় নারিকেল বীজ সরবরাহ করতে না পারা এবং সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থাানীয় কৃষকরা।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন নোয়াখালী এগ্রো সার্ভিস প্রদর্শনী কেন্দ্রের উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন) নুরুল আলম অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তালিকাভুক্ত কৃষক থেকেই নারিকেল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তাঁর কাছে কৃষকদের তালিকা চাওয়া হলে,তা দেখাতে ব্যর্থ হন এই কর্মকর্তা।
জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারিকেল বীজ ক্রয় ও চারা উৎপাদন কমিটির সদস্য রয়েছেন বলে উপপিরচালক নুরুল আলম জানালেও নারিকেল ক্রয় অথবা চারা উৎপাদন সংক্রান্ত কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মীরা রানী দাস ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশরেফুল হাসান।
ডিআই/এসকে