
এইচ এম জুয়েল রানা স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোরের মণিরামপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (৩০ কেজি) চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। আহতরা হলেন মিজানুর রহমান (৩৯), হাফিজুর রহমান (৪৫), ফারুক হোসেন (২৬), হাফিজুর (৪২), হৃদয় হোসেন (১৮), শাহিন (২০) এবং শাওন হোসেন (২৭)। আহতদেরকে মনিরামপুর ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (১, ২ ও ৩) ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সাথী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী জাহিদুল ইসলাম খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পরিবেশক। ঢাকুরিয়া বাজারে আমাদের গুদামঘর। বুধবার আমরা ৪৯৯ জনের চাল তুলে গুদাম ঘরে রেখেছি। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে চাল বিতরণ করতে চেয়েছিলাম। তার আগে সকাল ৭টা থেকে বিএনপির লোকজন চাল বিতরণের বিরুদ্ধে ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মারামারি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে আসেন। এ অবস্থায় আর চাল বিতরণ করা হয়নি।’ এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবেশক জাহিদুল ইসলাম নিজের গুদামে চাল না রেখে ঢাকুরিয়া বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিএনপি–সমর্থিত ইসরাফিল হোসেনের গুদামে চাল রাখেন। এই নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপক্ষ চাল বিতরণের পক্ষে ও অপরপক্ষ চাল বিতরণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। পরে মারামারি হলে চাল নিতে আসা উপকারভোগীরা খালি হাতে ফিরে গেছেন। ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘ইসরাফিল আমার গ্রুপের। বৃহস্পতিবার সকালে চাল বিতরণের প্রস্তুতি নিলে দলের অন্য গ্রুপের লোকজন ঢাকুরিয়া বাজারে চাল বিতরণের বিপক্ষে মিছিল বের করে। পরে চাল নিতে আসা লোকজনসহ আমার গ্রুপের লোকজন ওদের বিপক্ষে মিছিল করতে গেলে ওই পক্ষ মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আমাদের দলেরই ছয়-সাতজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আমার গ্রুপের দুজন আছেন।’ মনিরামপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘পরিবেশক নিরাপত্তার কথা ভেবে আমাদের সঙ্গে কথা বলে সেপ্টেম্বর মাসের চাল তুলে ঢাকুরিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ঘরে তোলেন। বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারি হওয়াতে চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুই-এক দিন পরে চাল বিতরণ করতে বলা হয়েছে।’ মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম বলেন, ‘খবর পেয়ে দুপুরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। চাল সরিয়ে পরিবেশকের নিজের গুদামে রাখতে বলা হয়েছে।’