
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী সিরাজুল ইসলামকে বোয়ালমারী মহিলা কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) মো.আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত কলেজ অধ্যক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ও কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়।
এখন তাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাকে কলেজের সভাপতি মনোনীত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কর্মকর্তা।
কাজী সিরাজুল ইসলাম আলফাডাঙ্গা,বোয়ালমারী ও মধুখালী নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১আসনে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিগত বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ২০০৫ সালের জুন মাসে তিনি আওয়ামী লীগের এমপি থাকা অবস্থায় বিএনপিতে যোগদান করেন। ফ্লোর ক্রস করায় তার সংসদ সদস্য পদ চলে যায়।
পরে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী সিরাজ বিএনপির মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে কলস মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন। সেই নির্বাচনে তিনি জামানাত হারান।
আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে কাজী সিরাজ আবার দলটিতে যোগদান করেন। প্রথমে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দলের ২২তম কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলির সদস্য হন।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে কাজী সিরাজ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয় না পেয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বোয়ালমারী মহিলা কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদলাভে কাজী সিরাজকে সহায়তা করেছেন বোয়ালমারী বিএনপি নেতাদের একটি অংশ। বিএনপির ওই অংশটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কাজী সিরাজকে বিএনপি নেতা পরিচয় দেন।
এক্ষেত্রে বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি,অতিসম্প্রতি বিএনপি নেতা পরিচয় দানকারী ডেভিড শিকদার, বোয়ালমারী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু,আলফাডাঙ্গা বিএনপির সাবেক নেতা খুশবুর রহমান খোকনসহ একটি অংশ রয়েছে।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এই অংশটি বিএনপি ভেঙে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরের নোঙ্গর প্রতীকের পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে,বারবার দল পরিবর্তনকারী এবং বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্টকারী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরের সঙ্গে আঁতাত করে এই অংশটি বিএনপির ভেতরে গ্রুপিং, দলীয় কোন্দল আরও বেশি মাত্রায় করতে তৎপর।
আওয়ামী লীগের কাজী সিরাজকে কলেজের সভাপতি পদলাভে বিএনপির যারা সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিক্ষুব্ধরা বলছেন, এভাবে যারা দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সামনের দিনে এসব লোকজন আরও বিতর্ক-কোন্দল তৈরির সুযোগ নেবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভালোমন্দ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে,অতীত বিবেচনায় যারা দেশ ও জাতির ক্ষতি করেছে সেই দিকটিই তিনি বিবেচনায় নেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’
ডিআই/এসকে