
লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার আলেকজান্ডার বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিন ধরে সরকারি ওই জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের কাজ করতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয় লোকজন, সরকার দলীয়নেতাকর্মী, বাজার ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলেকজান্ডার পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাসখতিয়ান ভুক্ত প্রায় সাত শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ক্ষুদ্রব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি আ.লীগ দলের পরিচয়ে দিয়ে একশ্রেণির সিন্ডিকেটরা ওই ভূমিতে বহুতল ভবনের কাজ করছেন। এতে সরকারী প্রায় তিন কোটি টাকার জমি বেদখল হচ্ছে।
জানা গেছে, গতকয়েকদিন যাবত সরকারী ভূমিতে দিনরাত অবৈধভাবে ভবনের কাজ প্রকশ্যে চলছে। স্থানীয়রা জানান ওই ভবনের কাজের টেন্ডার পেয়েছেন মেসার্স রাজি আহম্মদ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান পরিচয় দিয়ে মো. কবির হোসেন জানান, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বায়ান্ন লক্ষ টাকার কাজ পৌরসভা টেন্ডার আহবান করেন। ওই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করলে তিনি কাজ পান। বর্তমানে ওই কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান ওই ঠিকাদার।
আলেকজান্ডার ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা মো. দিদার সকালের খবর ২৪ ডট কমকে জানান, কে বা কারা সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ভবন করছে। এটি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
উপজেলা আ.লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আবু নাছের বলেন, আলেকজান্ডার বাজারে সরকারী খাস জমিতে ভবন করা একজন সচেতন জনপ্রতিনিধির পক্ষে মোটেও যুক্তিযুক্ত নহে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া ছাড়া কিছুই না।
পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেছ মোল্লা ও উপজেলা আ.লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, দুই- তিন কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ভবন করা সম্পূর্ণ বেআইনী। জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক ভিপি হেলাল ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোয়েব খন্দকার জানান, সরকারী জায়গা দখল করে ব্যক্তিসুবিধার্থে ভবন করা একেবারেই অযৌক্তিক। মেসার্স রাজি আহম্মেদ এর পরিচয় দিয়ে মো. কবির হোসেন জানান, পৌরসভায় টেন্ডার দিয়েছে। আমরা আমাদের লাইসেন্সে কাজ পেয়ে শুরু করেছি। তবে সরকারি খাস জমি কিনা এটা আমার জানা নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূূমি) মো. আমজাদ হোসেন জানান, সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে কেউ দখলে রাখার কোন সুযোগ নেই। আলেকজান্ডার বাজার সরকারি জায়গা দখলের বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে; আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান সকালের খবর ২৪ বলেন, সরকারি খাস জমিতে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এটি আমার জানা নেই। আমরা দ্রুত এবিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলকারীকে কোন ছাড় দেয়া হবে না।