ডেস্ক রিপোর্ট : কখনো কাগজে স্টীকার লাগিয়ে আবার কখনো সাইনবোর্ড লাগিয়ে অন্যকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে গত পনের বছর প্রভাব খাটিয়ে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চীফ হুইপ আসম ফিরোজের ভাইয়ের ছেলে একাধিক মামলার পলাতক আসামী মোঃ মনির হোসেন মোল্লা ওরফে মনির মোল্লা।
বুধবার পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন তথ্য তুলে ধরেন জেলার দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোঃ শাহজাহান হাওলাদার।
শাহজাহান হাওলাদার জানান, ২০১১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাউফল উপজেলার কালাইয়া গ্রামের মোসাম্মদ নাসরিন জাহানের সাথে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ের পর দুই সন্তানের বাবা হন তিনি। এরপর কালাইয়া এলাকায় যুবলীগ সেক্রেটারী মনির মোল্লার সহায়তায় জমি কিনে বিভিন্ন ব্যবসা শুরু করেন। এর মধ্যে তার স্ত্রী পরকিয়া প্রেমে আসক্ত হলে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস বৈঠক করে কোন সুফল না পেয়ে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক চলতি বছর গত ২০মার্চ তারিখ ডিভোর্স দেন। এরই মধ্যে যুবলীগ সেক্রেটারী মনির মোল্লা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় শাহজাহানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপরে কাগজে মনগড়া কথা লিখে রেখে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন। এক পর্যায়ে মনির মোল্লার নির্দেশে ডিভোর্সের দুই মাসের মাথায় নাসরিন জাহানকে দিয়ে পটুয়াখালী আদালতে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করান মনির মোল্লা। সেই মামলায়ে ৭দিন জেল হাজতে থাকার পর জামিনে মুক্ত হন।
এদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নাসরিন জাহানকে মারধর ও চাঁদা দাবীর অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন নাসরিন জাহান যুবলীগ সেক্রেটারী মনির মোল্লার নির্দেশে।
শাহজাহান হাওলাদার আরো জানান, চাঁদাবাজি আর অন্যের জমি লুট মিথ্যা মামলা দিয়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। তাছাড়া আমার মত কত পরিবারের সংসার যে ভেঙে গেছে, তার কোন হিসাব নাই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এব্যপারে কালাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন মোল্লার ব্যবহৃত ফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার নতুন নাম্বারটিও বন্ধ রয়েছে।
তবে শাহজাহান হাওলাদারের (ডিভোর্সকৃত) স্ত্রী নাসিরিন জাহান বলেন, “আমার যা বলার আমি আদালতে লিখিত অভিযোগে বলেছি। এরবাইরে আমার কিছু বলার নাই।”