ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালের খুচরা মাছের বাজারগুলো থেকে উধাও বাঙালির রসনা বিলাসের অন্যতম অনুসঙ্গ ইলিশ। বৃষ্টিমুখর দিনে ইলিশ মাছের স্বাদ নিতে অনেকেই দৌড়াচ্ছেন বাজারে। কিন্তু নগরীর বৃহৎ তিনটি বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। ক্রেতাদের দাবি, বিদেশে রপ্তানির সরকারি সিদ্ধান্তে বিক্রেতারা মজুদ করছে ইলিশ। তবে বিক্রেতাদের দাবি আবহাওয়া খারাপ থাকায় মাছের সরবরাহ কম বাজারে। অন্যদিকে ইলিশ মজুদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসাধু ক্রেতারা জড়িত থাকার দাবি করছেন স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নগরীর রূপাতলী, সাগরদি ও বাংলাবাজার এলাকার খুচরা মাছ মাংসের বাজারে সরেজমিনে গিয়ে ইলিশ শূন্যতার প্রমাণ মিলেছে। দু-একজন সামান্য কিছু ইলিশ মাছ আনলেও সেগুলোর আকার যেমন ছোট, তেমনি দামও আকাশচুম্বী। এসব বাজার ঘুরে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সাগরদি বাজারে গিয়ে ইলিশ না পেয়ে নিরাশ খলিলুর রহমান বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টি দেখে ভেবেছি দুপুরে ইলিশ-পোলাও খাবো। কিন্তু বাজারে এসে দেখি ২০-২৫ জন মাছ বিক্রেতার কেউই রহস্যজনকভাবে ইলিশ মাছ আনেনি। এখন বাধ্য হয়ে পোর্ট রোড আড়তে যাচ্ছি।
বাংলাবাজার ঐতিহ্যবাহী কাঁচাবাজারে কথা হয় মামুন সিকদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে ইলিশে দেখা নেই। ধারণা করছি দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্তের পর ব্যবসায়ীরা মাছ মজুদ করছে। এছাড়া গতকাল বিভিন্ন জায়গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান পরিচালনার পর যারা অতিরিক্ত দামে মাছ বিক্রি করতো তারা হয়তো বিক্রি বন্ধ রেখেছে।
রূপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী জব্বার তালুকদার জানান, গতকাল থেকে বরিশালের আবহাওয়া খারাপ। তুমুল বৃষ্টির কারণে মাছের ট্রাক আসতে পারেনি। ফলে বাজারে সরবরাহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বাজারে ক্রেতা কম, তাই খুব বেশি ব্যবসায়ী ইলিশ আনেননি তারা।
বিভাগীয় মৎস্য অফিসের উপ-পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, দেশের মোট আরোহণকৃত ইলিশের প্রায় ৬০ ভাগ আসে সাগর থেকে। চলতি মৌসুমে নানা কারণে সাগর উত্তাল ও আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ শিকার কিছুটা কম হয়েছে এটা সত্যি। তবে খুচরা বাজারে একদমই ইলিশ না থাকার পিছনে মূলত ক্রেতা-বিক্রেতাদের মজুদ প্রবণতাই মূল কারণ। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অনেক ব্যবসায়ী যেমন অতি মুনাফা ও রপ্তানির আশায় ইলিশ মজুদ করেছে। তেমনি কিছু অসাধু ক্রেতারাও মজুদের সঙ্গে জড়িত। যেহেতু আগামী ১৩ই অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। তাই অনেক স্বাবলম্বী ক্রেতারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি পরিমাণ ইলিশ কিনে বাসায় মজুদ করছে। ফলে সাধারণ মানের ক্রেতারা খুচরা বাজারে গিয়ে ইলিশ পাচ্ছে না।