
রাজশাহীর বাগমারায় পাঁচ বছর চাকুরির পর প্রভাষক (ইংরেজি’র) পদ শূন্য দেখালেন অধ্যক্ষ। ঘটনাটি উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের মোহনগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে।
তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ তরফদার ০৫/০১/২০১৬ খ্রি. তারিখ বিধি মোতাবেক শাহাদত হোসেনকে ইংরেজি প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন বলে দাবী করেন ভিকটিম।
তার পর থেকে যথারীতি পাঠদান সহ অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করে আসছেন শাহাদত হোসেন। অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ তরফদার অবসরে যান ৭ ডিসেম্বর ২০২০ সালে। এর পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান নূরুল হুদা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব পাবার পরও শাহাদত হোসেন যথারীতি ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান সহ যাবতীয় দায়-দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
অজ্ঞাত কারণে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নূরুল হুদা তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে পুরুষ কোঠায় প্রভাষক ( ইংরেজি’র) পদ শূন্য দেখান। আবার চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে একই পদ মহিলা কোঠায় শূন্য দেখিয়েছেন ।
সর্বশেষ ৮ মার্চ ২০২১ সালে প্রভাষক (ইংরেজি) পদ শূন্য দেখিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে নথি প্রেরণ করেন। নানা অজুহাতে তার পর থেকে শাহাদত হোসেন কে পাঠদান থেকে বিরত রেখেছেন অধ্যক্ষ ।
ভুক্তভোগী প্রভাষক শাহাদাত হোসেন জানান, নিরুপায় হয়ে আমি মহামান্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করি ( রিট পিটিশন নম্বর, ৫২৪১/২০২১)। আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট নিয়োগে স্থগিতাদেশ প্রদান করে। যার প্রেক্ষিতে মাউশি থেকে পক্ষদ্বয়কে শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য নোটিশ সহ নির্দেশ প্রদান করেছে ।
তিনটি শুনানিতে ভিকটিম শাহাদত অংশ গ্রহণ করেন এবং যাবতীয় দলিল দস্তাবেজ দাখিল করেছেন। অসুস্থতা ও নানা অজুহাতে অধ্যক্ষ ( ভারপ্রাপ্ত ) নূরুল হুদা শুনানিতে উপস্থিত হন নাই।
সর্বশেষ ০৯/১০/২০২৩ ইং শুনানির দিন (তৃতীয় ডেট) ধার্য থাকলে অসুস্থতার অজুহাতে শুনানিতে উপস্থিত হননি। কিন্তু একই দিনে অত্র কলেজে প্রভাষক ( ইংরেজি) পদে একজন মহিলাকে যোগদান করিয়ে নেন অধ্যক্ষ নূরুল হুদা। সূত্র জানিয়েছে, জয়পুর হাট জেলার বাসীন্দা জণৈক জাকিয়া আক্তার সরকারি চাকুিরজীবী। গত বৃহস্পতিবার নতুন ইংরেজি প্রভাষক জাকিয়া আক্তার পাঠদান করাচ্ছেন কী না ? এমন প্রশ্নের জবাবে ‘রা’ আদ্যাক্ষর ও ‘জু ‘ আদ্যাক্ষরের একাদশ শ্রেণির দুই জন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শুনেছি ,আমাদের নতুন ম্যাড়ামের নিয়োগ হয়েছে। তিনি এখন ক্লাসে আসেন নাই। না আসলেও হাজিরা খাতায় গোপনে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন বলে সূত্র জানায় । (হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের ছবি,অডিও ক্লিপ, অভিযোগের কপি এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত)।
প্রভাষক শাহাদত এর বড় ভাই রহিদুল ইসলাম জানান, মামলা-মোকদ্দমা, হাইকোর্টে দৌড়াদৌড়ি করতে আমরা একেবারে নিঃশেষ হয়ে গেছি।
সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৩ইং মাননীয় ডিজি, শিক্ষা সচিব, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী বরাবর অধ্যক্ষের শাস্তি চেয়ে লিখিত নালিশ করেছেন ভিকটিম শাহাদত হোসেন। প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ তরফদারের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিধি মোতাবেক শাহাদত হোসেনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তিনি একজন ভালো শিক্ষক। শুনেছি তাঁকে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই বরখাস্ত বা কলেজে ক্লাস করতে দেয়া হচ্ছে না।
ডিজির প্রতিনিধি ও তৎকালীন রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ ( বর্তমানে অবসরে) জার্সিস কাদির নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
সরজমিন মোহনগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে উপস্থিত হলে আলাপ চারিতায় অধ্যক্ষ নুরুল হুদা জানান, ওর কোন নথিপত্র আমার কাছে নাই। যা কিছু জিজ্ঞাসা পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ লতিফ তরফদারকে জিজ্ঞেস করুন।
দীর্ঘ আলাপচারিতায় অধ্যক্ষ নুরুল হুদার বক্তব্য রেকর্ড দিতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা যা খুশি আমার বিরুদ্ধে লিখতে পারেন।