
জামালপুরের মেলান্দহে এতিমখানায় নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের সাথে জড়িত খোঁদ এতিমখানার শিক্ষক, কমিটির লোকজন। গাফিলতি রয়েছে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তাদের।
প্রতিটি এতিমখানায় বরাদ্দের তালিকায় থাকা এতিমের চেয়ে উপস্থিত এতিমের সংখ্যা কম।
বরাদ্দের টাকা খরচের খাতায় হিসাবের কোন মিল নেই। উপজেলায় নিবন্ধিত ৬টি বেসরকারি এতিমখানায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। এসব এতিম শিশুর জন্য চিকিৎসা, খাওয়া এবং পোশাক বাবদ প্রতি মাসে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যে খাদ্য বাবদ ১ হাজর ৬০০ টাকা, পোশাকে ২০০ টাকা, ওষুধ ও অন্যান্য খাতে ২০০ টাকা ব্যয় করার শর্ত রয়েছে।
জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নয়াপাড়া কাজাইকাটা জামিয়া দারুল উলুম আরাবিয়া এতিমখানায় ১ম কিস্তি ২২জন ও ২য় কিস্তি ১৭ জন,চাকদহ আল মদিনাতুল উলুম এতিমখানায় ১ম কিস্তি ১১ জন ও ২য় কিস্তি ৯ জন,নাওঘাটা মমতাজুল উলুম খাদিজাতুল কুবরা রাঃ মহিলা এতিমখানায় ১ম কিস্তি ১২ জন ২য় কিস্তি ৮ জন,বানিপাকুরিয়া নুরীয়া ইসলামিয়া এতিমখানায় ১ম কিস্তি ১৬ জন ও ২য় কিস্তি ১১ জন এতিমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চাকদহ আল মদিনাতুল উলুম এতিমখানায় দেখানো হয় ৯ জন এতিম ।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুপুরের রান্না করা হচ্ছে পাশের একটি বাড়িতে।সাধারন শিক্ষার্থী ও এতিম শিক্ষার্থীদের খারার একসাথে রান্না হচ্ছে।এতিমখানার প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রকৃত কতজন এতিম রয়েছে জানা যায়নি।
নাওঘাটা মমতাজুল উলুম খাদিজাতুল কুবরা রাঃ মহিলা এতিমখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৮ জন শিশু সরকারের দেয়া বরাদ্দের সুযোগ-সুবিধার তালিকাভুক্ত।
কাগজে-কলমে এসব শিশুর উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে বাস্তবের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এতিমখানায় ৪ জন এতিম ছাত্রী রয়েছে।দরিদ্র-অসহায় ও টাকা দিয়ে খাবার খাওয়া ২২ জন শিক্ষার্থীর খাবার একসাথে রান্না হয়। এতিমদের পিছনে কতটাকা খরচ হয় এর কোন সঠিক হিসাব নেই।
কাজাইকাটা নয়াপাড়া আমিনিয়া দারুল উলুম আরাবিয়া এতিমখানায় ১৭ জন এতিমের বরাদ্দ দেওয়া জয়। সরেজমিনে দেখা যায় ৪ জন এতিম শিশু অবস্থান করছে। এতিমখানা ও মাদ্রাসার ৩৫ জন শিক্ষার্থীর খারার একসাথে রান্না হয়। এতিমখানার এক শিক্ষার্থী জানায়, সকালে ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, সবজি। দুপুরে-ও রাতে ব্রয়লার মুরগির গোশত, পাঙাশ মাছ, ডিম ও মাজে মাঝে গরুর মাংস খেতে দেয়া হয়।’
বানিপাকুরিয়া নুরীয়া ইসলামিয়া এতিমখানার চিত্র একই রকম। এতিম শিশু কম থাকায় অসহায়-দুস্থ শিক্ষার্থীদের মাঝে বরাদ্দের টাকা
খরচের কথা জানায় এতিমখানার এক শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি এতিমখানার শিক্ষক বলেন, বরাদ্দের বিল হওয়ার আগে সমাজসেবা
অফিস থেকে পরিদর্শনে আসে।তখন তাদের কিছু সম্মানী দিতে হয়। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রেজারিসহ সবকিছু সমন্বয় করেন। এভাবেই চলছে। এতিম শিশু কম থাকলেও অসহায় দুস্থ শিক্ষকর্থীদের থাকা, খাওয়া এবং শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে বাকি টাকা খরচ হয়ে যায়।’
মেলান্দহ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আমি নতুন এসেছি।সম্প্রতি এতিমখানা গুলো পরিদর্শন করেছি। অনিয়মের বিষয়টি জানা নেই।আপনাদের নিকট শুনলাম।বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।