
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম এমুসহ ৮ আওয়ামী লীগ নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫-সেপ্টেম্বর) দেবীগঞ্জ থানায় এই মামলা হয়।
সদর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ জয়নুল হক বাদী হয়ে তার উপর হামলা, দোকান ভাঙচুর, টাকা ছিনতাই এবং চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ঐ ৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, দেবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে কায়েদে আজম, কৃষক লীগ নেতা ইউসুফ আলী ও মোঃ শফিক। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত বছর ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে সদর ইউনিয়নের মড়াতল্লী বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জয়নুল হকের দোকানে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম এমুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
প্রথমে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগী জয়নুলের মাথায় রাম-দা দিয়ে আঘাত করা হয়। অন্যান্য আসামিরা তার শরীরের এলোপাথারি আঘাত করতে থাকেন। আহত অবস্থায় বাচার জন্য সেখান থেকে দৌড়ে আব্দুল বাকীর বাসায় আশ্রয় নিলে সেখানেও ভাঙচুর চালায় অভিযুক্ত আসামিরা। জয়নুল হকের গলা চেপে ধরে শ্বাস রোধে হত্যা চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় জয়নুল হক বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনের নামে দেবীগঞ্জ থানায় মারধর, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ভাঙচুর এবং হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।