
সাইদ সাজু, তানোর থেকেঃ রাজশাহী-১ তানোর গোদাগাড়ী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও বেশ কয়েকটি ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিপুল সংখ্যক আ.লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বাদি হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তানোর থানা ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে এসব মামলা দায়ের করেন তারা।
এসব মামলায় উপজেলার পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আবদুল মতিন, বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও পাঁচন্দর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রশিদুজ্জামান রাশেলকে ৫ সেপ্টেম্বর (রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখার) ডিবি পুলিশ আটক করে।
মামলার কাগজপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, প্রথম মামলাটির বাদী তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির কাদেরপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ। তিনি অত্র ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। এ মামলায় প্রধান আসামি রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার, তানোর পৌর আ.লীগের সভাপতি ইমরুল হক ও বেশ কয়েকটি ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ১০৭ জন নেতাকর্মী ছাড়াও ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। গত ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর কামারগাঁ বাজারে অবস্থিত জিয়া পরিষদ কার্যালয়ে অনাধিকার প্রবেশ করে ভাংচুর ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা বাজির অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়।
অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলার বাদী উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউপির দেওতলা গ্রামের আবদুল করিম সরকার। তিনি রাজশাহী জেলা কৃষক দলের সদস্য। আর থানা কৃষক দলের যুগ্ন-আহবায়ক। এছাড়াও অত্র ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার। এ মামলাতেও প্রধান আসামি রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, দ্বিতীয় আসামি তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমানসহ সব ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও আওয়ামী লীগের ১৫৬ জন নেতাকর্মী আর ২৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। গত ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল বিকেলে চাঁন্দুড়িয়া বাজারে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস থেকে বেড়িয়ে বাদীকে ঘেরাও করে ধরে। পরে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আসামিরা বাদিকে মারধর করে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে এ মামলা করেন করিম মেম্বার।তবে, তৃতীয় মামলার বাদী তানোর পৌর সদরের আমশো মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম (৩৮)। তার পিতার নাম মৃত কুতুব উদ্দিন। তিনি তানোর পৌর সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক। এ মামলার প্রধান আসামি তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার, দ্বিতীয় আসামি তানোর উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রামিল হাসান সুইট ছাড়াও রশিদুজ্জামান রাশেলসহ ১১ জন নামধারী নেতাকর্মী। আর ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। চলতি ২০২৪ সালের গত ৪ আগস্ট বেলা অনুমান ১১ ঘটিকার সময় বাদিকে আসামীগণ বিএনপি সমর্থক বলে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে একই তারিখ ১১.১০ ঘটিকার সময় গোল্লাপাড়াস্থ আ.লীগের পার্টি অফিসে বাদিকে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করে ৩ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। পরে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আসামিরা মারধর করে ৩ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে এ মামলা করে মাহবুব আলম।
চতুর্থ মামলাটি করেন তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউপির কৃষক দলের সভাপতি হাসান মেম্বার। এ মামলায় আ.লীগের ২৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে, এই মামলার কপি পাওয়া যায়নি বলে কারণ সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, আমশো মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম নামের একব্যক্তির অভিযোগ পেয়ে থানায় মামলা রুজু করা হয়। আরেকটি বিজ্ঞ আদালত মাধ্যমে পেয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি। এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে আবদুল মতিন, আতাউর রহমান ও রশিদুজ্জামান রাশেলকে আটক করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে তাদের পাঠানো হয়েছে।